আবেদ আলী : সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী উন্নয়নের বাংলাদেশে কেউ অবহেলিত থাকবে না কিন্তু নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাজিরহাট পান্তাপাড়া এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানকার কাজিরহাট পান্তাপাড়া দোকানের পার হইতে ফুলকলি শিশু নিকতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে পূর্ব কাজিরহাট পাকা রাস্তা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বেহাল দশা। স্থানীয়দের মতে স্বাধীনতার পর আজ অব্দি এখানে কোনো উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদা পানিতে একাকার হয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয় এবং ধেয়ে ধসে যায় সড়কটি। এছাড়াও শুষ্ক মৌসুমেও ধুলোবালি ও অসমতল পথের কারণে চলাচল করা দায়। এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন রিক্সা ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও স্থানীয় সহ হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ফুলকলি শিশু নিকতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। এখন বর্ষাকালে কাদা-পানিতে ভেজা কাপড় আর জুতো নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া তাদের দৈনন্দিন জীবনের এক বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আলী এবং ওই এলাকার সবুজ, আরিফুল ইসলাম ও পাইকারের সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। ইউনুছ আলী বলেন, আমরা এমন একটা পৌরসভায় বাস করি, মনে হয় এরকম দুর্ভোগের রাস্তা আর কোথাও নাই। দেশ স্বাধীনের আজ অবধি এই রাস্তাটিতে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।সরকারের এত উন্নয়ন হয়, কিন্তু আমাদের এই সড়কটি যেন কারো নজরেই আসে না।
সবুজ বলেন, "বর্ষাকালে তো এই রাস্তায় পা ফেলাও দায়। রিকশা বা ভ্যান উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গর্ভবতী মা বা অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া চরম ঝুঁকির কাজ হয়ে দাঁড়ায়।" আরিফুল ইসলাম যোগ করেন, "স্কুলের ছোট বাচ্চারা কাদা-পানিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট করে ফেলে, পড়ালেখায় মন বসাতে পারে না। আমাদের দাবি, এই রাস্তাটি যেন গার্ডওয়ালসহ দ্রুত সংস্কার করে পাকা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পৌরসভার কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সুফল মেলেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌরসভার মেয়রের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনতিবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটে।