মো:রুহুল আমিন রাসেল,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি : লালমনিরহাট হাতীবান্ধা থানার একটি মাদক উদ্ধার অভিযানকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযানে ১ হাজার বোতল ভারতীয় মাদক সিরাপ উদ্ধার হলেও মামলায় মাত্র ২০০ বোতল দেখানো, উদ্ধার হওয়া মাদকের বড় অংশ আত্মসাৎ, ঘুষের বিনিময়ে আটক চালক ও গাড়ি ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ তালিকায় ভিন্ন গাড়ি দেখানোর অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৩ মে হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়ের করা একটি মাদক মামলায় উল্লেখ করা হয়, ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বোর্ডেরহাট ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল স্কাফ ও ১০০ বোতল ফেয়ারড্রিল সিরাপসহ মোট ২০০ বোতল ভারতীয় মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন পূর্ব কাদমা বনচৌকি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সাদা টয়োটা করোলা ক্রস ধাওয়া করে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর বালাপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে গাড়িটি দৈ খাওয়া বাজার এলাকায় নিয়ে এলে সেখান থেকে প্রায় ১ হাজার বোতল ভারতীয় স্কাফ ও ফেয়ারড্রিল সিরাপ এবং চালক রাসেল হোসেনকে আটক করা হয়।
অনুসন্ধানে পাওয়া একটি গোপন ক্যামেরার ভিডিওতে নিজেকে মাদক ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া মমিনুর ইসলাম বাবু (মেকার বাবু) দাবি করেন, তিনি নিজেই করোলা ক্রস গাড়িটিতে ১ হাজার বোতল সিরাপ তুলে দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, পুলিশ ১ হাজার বোতল উদ্ধার করলেও মামলায় দেখানো হয়েছে মাত্র ২০০ বোতল। বাকি ৮০০ বোতল পুলিশের সোর্সদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
একই ভিডিওতে আরও অভিযোগ করা হয়, আটক চালক রাসেল হোসেন ও করোলা ক্রস গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার পর চালক ও গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া মামলার এজাহারে রাসেল হোসেনকে পলাতক দেখানো এবং প্রকৃত করোলা ক্রসের পরিবর্তে একটি পুরোনো প্রটোন প্রাইভেটকার জব্দ দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
মামলার সাক্ষী গ্রাম পুলিশ কবির হোসেন ও চৌকিদার ইসরাইল হোসেন জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০০ বোতল মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্য ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। মামলার বাদী এসআই মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের হাতীবান্ধা থানা থেকে ক্লোজ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর ১৮ জুন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কালীগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযোগে উল্লেখিত সেই টয়োটা করোলা ক্রস গাড়ি থেকে আবারও মাদকসহ চালক রাসেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় রাসেল হোসেন, বাদল আহমেদ জুয়েলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।