একাডেমিক উৎকর্ষ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে নীলফামারী সরকারি কলেজ। অধ্যক্ষ এ কে এম সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে কলেজে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিমত।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কলেজ ক্যান্টিন আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ক্যান্টিন চালু, ক্যান্টিনের সামনের অংশে নতুন দরজা-জানালা সংযোজন ও রং, প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার এবং দারোয়ানের কক্ষের টিন পরিবর্তন, ডিজিটাল সাইনবোর্ড স্থাপন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ আধুনিকায়ন এবং রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া কলেজের দক্ষিণ পাশের পাঁচতলা ভবনের পানির ট্যাংক মেরামত করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ছাত্রী হোস্টেল-২-এর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গেট সংস্কার ও রং, ভাঙা জানালা মেরামত, নতুন বড় গেট নির্মাণ, চলাচলের পথে ইটের সলিং এবং নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আবাসিক পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও বসবাস উপযোগী করা হয়েছে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অধ্যক্ষের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন। এসব সমাবেশে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, উপস্থিতি, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা হয়। এতে শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠেছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করতেও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কলেজ প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা কলেজের ইতিহাসে প্রথম বলে কলেজ-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ছিলেন। এই উদ্যোগ বর্তমান শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিমত।
কলেজ-সংশ্লিষ্টরা জানান, অধ্যক্ষ এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে নীলফামারী সরকারি কলেজে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে কলেজটিকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।