প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৩১, ২০২৬, ৪:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩১, ২০২৬, ১২:৩২ এ.এম

নীলফামারী জেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-এর অর্থায়নে ডোমার উপজেলায় অসহায়, প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্মী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ ও ২ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম এবং প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেয়াজুল ইসলাম কালু, জেলা বিএনপির সদস্য আক্তারুজ্জামান সুমন, মোজাফফর হোসেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের এডিপির অর্থায়নে উপকারভোগীদের মাঝে হুইলচেয়ার, বাইসাইকেল, ফুটবল, ভলিবল, ফার্স্ট এইড সেট, টিউবওয়েল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্য ডে-কেয়ার সেট এবং টেবিল টেনিস বোর্ড সেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া উপজেলার ১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগী শিক্ষার্থী, অসহায় নারী, খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জেলা পরিষদের এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার প্রসার, ক্রীড়ার উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা এ উদ্যোগের জন্য জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, "জনগণের কল্যাণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে এগিয়ে নিতে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। উন্নয়নের সুফল যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।"
সম্মানিত অতিথি রেহেনা আক্তার রানু বলেন, "একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জেলা পরিষদের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা ও খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে।"
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, "জেলা পরিষদ সব সময় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্মী বলেন, "সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সকলের সহযোগিতায় ডোমার উপজেলাকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।"
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে সামগ্রী ও শিক্ষাবৃত্তির চেক আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। উপস্থিত উপকারভোগীরা এ সহায়তা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।