মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমারে আবাদী ডাঙ্গা জমির বর্তমান বাজার মূল্যে ক্ষতিপূরণের দাবীতে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকগনের ব্যনারে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ৩ আগষ্ট দুপুর ১২টায় উপজেলার ৮নং ডোমার সদর ইউনিয়নের বড়রাউতা সাহার উদ্দিন পাড়ায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, Dhaka and western zone transmission grid Expensing project প্রকল্পের আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি Gis গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মানের জন্য বড়রাউতা গ্রামে ৪ শত ৯৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শাখা নীলফামারী কর্তৃক বর্তমান বাজার মূল্য নির্ধারন না করে তারা ১২ হাজার টাকা জমির শতাংশ নির্ধারন করেন, যা বর্তমান বাজার দরের তুলনায় অত্যন্ত নগন্য ও অপ্রতুল। তবে জমি অধিগ্রহণের পূর্বে দলিল নম্বর ৪৫৮৪/২১ জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ যাহার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা, দলিল নম্বর ৩৫৬/২১ জমির পরিমাণ ৬২ শতাংশ যাহার মূল্য ১ কোটি টাকা, দলিল নম্বর ৯২৮/২০১৯ জমির পরিমাণ ১৫ শতাংশ যাহার মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। উপরের তথ্য অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কর্তৃক নির্ধারিত ১২ হাজার টাকা থেকে অনেক গুণ বেশি। তাই বর্তমান বাজার মূল্য সদয় বিবেচনা করে কমপক্ষে প্রতি শতাংশ ২ লক্ষ নির্ধারণ করে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরনের অর্থ পরিশোধ করার দাবী জানাই। তারা আরও বলেন, ক্ষতিপূরনের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময় ডোমার-ডিমলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার রংপুর এবং জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করি কিন্তু তার কোন সুফল আমরা পাইনি।
আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, সরকারের ইতিবাচক সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আমরা সবসময় সাধুবাদ জানাই। তবে উন্নয়নের নামে যখন আমাদের একমাত্র সম্বল জমিগুলো কমদামে মূল্যায়িত হয় তখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভূগি। আমাদের এই জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর, আমরা এই জমি থেকে ফসল ফলিয়ে সারাবছর সংসার পরিচালনা করি, বর্তমান বাজার মূল্য না পেলে আমাদের পরিবার গুলো স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক সংকটে পতিত হবে এবং আমরা কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এক দূর্বিসহ অবস্থায় দিনযাপনে বাধ্য হবো।
আমাদের দাবী এল এ, মামলা নং ০২/২০২১--২২ এর আওতাভুক্ত করে বর্তমান সময়ের সঠিক বাজার দর অনুযায়ী পূনঃনির্ধারন করতে হবে, যেন আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হই। পরিশেষে তারা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন জানান তিনি যেন তাদের এই ন্যর্য্য দাবী পূরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খালেক, আব্দুল মজিদ, আনছার আলী, আব্দুল জব্বার এবং রবিউল জানায়, বর্তমানে আমাদের দাবী একটাই প্রতি শতক জমি ২ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে আমাদের পাওনা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিবে। যদি আমাদের ন্যায্য দাবী এবং জমির ক্ষতি পূরন ঠিকমতো না দেওয়া হয় তাহলে আমরা আমাদের জমি ছাড়বোনা।
মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও সংবাদ সম্মেলন শেষে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তম্বী স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপিটি প্রেরণ করা হবে।