
তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিগগিরই নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারকদের প্রস্তাব অনুযায়ী এর দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৮ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া খোলা পাম তেলের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার খোলা পাম তেল ১৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে ভোজ্যতেল আমদানি ও বাজারজাত করতে তাদের লোকসান হচ্ছে। এ কারণে বাজারদর পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারদর সমন্বয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। বিশ্ববাজারের দাম, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-করসহ অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ হাজার ১৯১ মার্কিন ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ১৬৯ ডলার। এক বছর আগে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৮ ডলার।
অন্যদিকে, অপরিশোধিত পাম তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন পাম তেল প্রায় ১ হাজার ১৬২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল প্রায় ১ হাজার ২৫ ডলার।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ এবং দেশের বাজারে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে দেওয়া বিভিন্ন করছাড় ও অন্যান্য সুবিধা হিসাব করে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে প্রায় তিন মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম বলেন, ভোজ্যতেল আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় প্রতি লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন লোকসান দিয়ে আমদানি অব্যাহত রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কার্যকর হলে ভোজ্যতেলনির্ভর নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে না।