মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার,ডোমার নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমারে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ১৫ আগষ্ট সকাল সাড়ে এগারোটায় ডোমার বাজারস্ত বাটারমোড়ে ফ্যাসিষ্ট সরকারের হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সভাপতি গোলাম কুদ্দুস আইয়ুবের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মাহফুজ হোসেন, এ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ, ইলেকট্রেকশিয়ান নুরুজ্জামান বাবলা প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে বাজারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল প্রদক্ষিণ করে এলাকা বাসী।
এবিষয়ে ডোমার বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সভাপতি গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, সরকার চাকুরীজিবীদের আগে শ্রম নেয়, তারপর বেতন দেয়, এখানে উল্টো, বৈষম্য হচ্ছে না? সরকার কে ষ্টীম রোলার চালানো বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী সরকারের ৩১টি প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। এটাও বাতিল করতে হবে।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মাহফুজ হোসেন বলেন, জনস্বার্থ বিরোধী, হয়রানি মুলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করতে হবে। ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ বাতিল করতে হবে। মিটার ভাড়া কতদিন ধরে নেওয়া হবে, তার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। প্রিপেইড মিটার ডাকাতি ছাড়া কিছুই নয়। কৃষক ও কৃষি উপকরণ বাকীতে নিতে পারে, কিন্তু এখানে অগ্রীম টাকা দিয়ে নিতে হবে। এটা কি হতে পারে। কেউ এটা মেনে নেবে না। ভোটের আগে নেতাদের পাওয়া যায়। এখন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা নিয়ে তাদের আর পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জনসাধারণ কে আহবান জানিয়ে বলেন, নেসকোর লোক আপনাদের বাড়িতে যায় তাহলে প্রিপেইড মিটার লাগাতে দিবেন না। আপনারা লাগাতে বাধ্য নন।
এবিষয়ে এ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ বলেন, প্রিপেইড মিটারে নানা রকম হিডেন চার্জ আছে। জরুরি মুহূর্তে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তারা লুটপাট করে বিদেশে চলে গেছে। বিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছ ও জবাব দিহিতা মুলক করতে হবে।
নেসকোর আবাসিক বিদুৎ গ্রাহক ও সাংবাদিক আনিসুর রহমান মানিক বলেন, ৫ মাস আগে প্রিপেইড মিটার লাগাইছি, ১৫শত টাকা লোড দিল, ১০ দিনের মধ্যে শেষ। এটা মানুষ মারার যন্ত্র, মানুষ ধ্বংস করার যন্ত্র, আগের মিটার ভালো ছিলো।
ইলেক্ট্রিশিয়ান নুরুজ্জামান বাবলা বলেন, এটা হচ্ছে ক্যাসিনো খেলার মত। এইটা মিটারে বজ্রপাতে আগুন ধরে যায়। এতে বাড়িঘরেও আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে।

মাওলানা নুরুজ্জামান (৩৫) বলেন, এটা ডিজিটাল চাঁদাবাজ ছাড়া কিছুই না। তোর মিটার তুই নে, আমার মিটার আমাকে ফিরিয়ে দে।
গ্রাহক সহিদার রহমান (৫৫) বলেন, প্রথমে এনালক মিটার, তারপর সাশ্রয়ের জন্য ডিজিটাল মিটার আনা হল। আরও সাশ্রয়ের জন্য প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। আমার বাড়িতে গরু-মহিষ আছে। সিসিক্যামেরা আছে। বিদ্যুৎ গেলে চুরি ডাকাতি হলে কে দায়ী হবে।
এ ব্যাপারে ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম জানান, যে কেউ মানববন্ধন করতে পারে। প্রিপেইড মিটার স্থাপন নিয়ে কোন বক্তব্য থাকলে নেসকোর লোকাল প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে তো বলতে হবে। তা না জানিয়ে তারা মানববন্ধন করছে। মনে হয় তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।