নীলফামারী জলঢাকায় চন্দনা রানী (২৭) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গৃহবধূর মৃত্যু আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকান্ড মর্মে অভিযোগ স্বজনদের। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার পূর্বক জেলা মর্গে প্রেরণ করেছেন বলে থানা সূত্রে জানা যায়। গতকাল ১৫ই আগস্ট শনিবার সকালে উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বাঁশদহ্ বাদিয়াপাড়া গ্রামের নরেন ঋষির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
মৃত্যুর বড় মেয়ে পূজা রানী রায় (১২) জানান, আমি সকাল ৫টায় ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরে মা নেই। ভাবলাম আশেপাশে হয়তো কোথাও গেছে। এ সময় আমি বাথরুম থেকে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সকাল সাড়ে ৭টায় উঠে দেখি আমাদের শয়ন ঘরের তীরের সঙ্গে মায়ের ঝুলন্ত লাশ। এ সময় আমি আত্মচিৎকার করলে সবাই উপস্থিত হয়।
মৃত্যুর স্বামী সুকুমার ঋষি জানান, রাতে আমি বিয়ে বাড়িতে বাদ্য বাজাতে যাই। সকালে বাড়ি এসে দেখি এই অবস্থা। কি করে এমন ঘটনা ঘটলো বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে মৃত্যুর বাবা সুমন্ত ঋষি গণমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে তার দেবর রাজ কুমার ও ফুল কুমার পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে এবং হত্যার পর আমার মেয়ের গলায় রশি দিয়ে নিজ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলে রাখেন। যাতে সবাই মনে করেন চন্দনা রানী নিজেই আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর পিতা সুমন্ত ঋষি অভিযোগ করে আরো বলেন, আমার জামাইকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক মানুষিক ভারসাম্যহীন করেছে এবং আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করে আসছেন জামাতার আপন ভাই রাজ কুমার ও ফুল কুমার। সেই সঙ্গে দফায় দফায় যৌতুক বাবদ টাকা দাবী করে আমার বিয়াই নরেন ঋসি ও বিয়ানি। সুমন্ত ঋষি অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। মেয়ের মৃত্যু লাশ দেখে বুঝতে পেরেছি এটি পরিকল্পিত হত্যা। তাছাড়া আত্মহত্যা করার সময় মৃত্যুর কিছু আলামত থাকে। এ মৃত্যুতে সে রকম কোন আলামত পাওয়া যায়নি। আমি নিশ্চিত যে আমার মেয়েকে তারা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে এবং ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গলায় রশি বেঁধে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলে রাখে। আমি এ হত্যাকান্ড ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করছি। এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি নাজমুল আলম জানান, মৃত্যুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৯।