আবেদ আলী : নীলফামারীর জলঢাকায় সন্ধা হলেই চলে জুয়ার আয়োজন। দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাদক এবং ফরগুটি জুয়ার আসর। মাঝেমধ্যে পুলিশ কিছু মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তদের গ্রেপ্তার করলেও নেপথ্যের জুয়া ও মাদকের গডফাদাররা বরাবরের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও এসব অবৈধ কার্যক্রমের মূল হোতারা কীভাবে পার পেয়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যার পর গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ ফরেস্ট ঘোড়া খেলার ডাঙ্গায় ডাবু জুয়া চলছে। এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে যাওয়ার পথে রাতের আলোয় মাছ ধরতে থাকা হরি পদ রায় নামক এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে রাতভর ডাবু জুয়ার আসর বসে। জুয়াড়িরা থানা থেকে শুরু করে পথে পথে নিজস্ব সোর্স বা তথ্যদাতা বসিয়ে রাখাসহ কমবেশি সবাইকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই জুয়া ও মাদকের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে পৌরসভার চেরেঙ্গা বটতলী, কালিরথান, বালাগ্রামের কাশিনাথপুর, কাঁঠালি ইউনিয়নের ধিমের ধাপ এবং গোলনা ইউনিয়নের কালীগঞ্জের ফরেস্ট ঘোড়া খেলার ডাঙ্গায় বর্তমানে প্রতিদিন কোটি টাকার বারমাসী জুয়ার আসর বসছে।
এ বিষয়ে গোলনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রতিদিন কোটি টাকার খেলা হয়। এমনকি আমাদের ২/১ জন মেম্বারও এর সাথে জড়িত এবং তারা নিজেই খেলার বোর্ডে বসে থাকেন। এবিষয়ে আমি ওসি সাহেবকে অনেক আগে থেকেই বলে আসি কিন্তু কোনও কাজ হয়না।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, জুয়া নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিষয়টি আমিও শুনেছি এবং তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে এসব জুয়া ও মাদকের আস্তানাগুলো চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।