জয়নাল আবেদীন হিরো,স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রাক ভর্তি অটো রিক্সা ও ভ্যানের ৩০০ পিস ব্যাটারী আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৪ টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের সওজ ভবনের সামনে স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে পুলিশ ও কাস্টমস্ সৈয়দপুর সার্কেল কর্তৃপক্ষ গিয়ে আটক ব্যাটারীগুলো জব্দ করে নিজেদের জিম্মায় নিয়েছেন।
জানা যায়, ট্রাকে মাদকদ্রব্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার মটর শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজন ট্রাকটা আটক করে। এসময় চালক জানায়, এগুলো অটোর ব্যাটারী যা সৈয়দপুর শহরের বিউটি সাইকেল স্টোরে যাবে। এর প্রেক্ষিতে লোকজন চালান দেখতে চায়। এতে দেখা যায়, জব্দকৃত ব্যাটারীগুলো নারায়নগঞ্জের জুয়াওনজু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে কেনা।
চালানে প্রাপকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সৈয়দপুর শহরের সাজ্জাদ সাইকেল স্টোর। কিন্তু এই নামের কোন প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর শহরে নেই। ফলে সন্দেহ হওয়ায় তারা প্রথমে পুলিশকে জানায়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও মালগুলো অবৈধ নয় মর্মে ছেড়ে দিতে চায়।
এমতাবস্থায় উপস্থিতরা বিষয়টি সৈয়দপুর কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষকে জানায়। তখন কাস্টমস্ গিয়ে চালানের ভিত্তিতে মালের মালিককে উপস্থিত করতে বললেও ট্রাক চালক ব্যর্থ হয়। এরপর একাধিকবার কল করলেও কোন মালিক উপস্থিত না হওয়ায় কাস্টমস্ ট্রাকসহ সৈয়দপুর থানায় নিয়ে আসে।
এখানে ট্রাকের সব ব্যাটারী নামিয়ে মাদক দ্রব্য আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়। কিন্তু ব্যাটারী ছাড়া আর কোন কিছু পাওয়া যায়নি। পরে ব্যাটারীগুলো গণনা করার পর আবার ওই ট্রাকে করেই রংপুর কাস্টমস্ এর গোডাউনে রাখার জন্য নিয়ে যায়।
সৈয়দপুর থানায় জব্দকৃত মাল গণনা শেষে কাস্টমস্ এর রাজস্ব কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন মজুমদার জানান,
ট্রাকে বিভিন্ন সাইজের ৩০০ পিস অর্থাৎ ১৫০ সেট ব্যাটারী আছে। এগুলোর মালিক উপস্থিত না থাকায় আমরা জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে যথাযথ কাগজপত্রসহ মালিকানা দাবিকারী কেউ আসলে তাকে মালমাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আর এক্ষেত্রে ট্যাক্স বা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য যাচাই করে দেখা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোন মালিক বা যথাযথ কর্র্তৃপক্ষ পাওয়া যায়নি। বিউটি সাইকেল স্টোর বিষয়ে তারা কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
চালকের বক্তব্য অনুযায়ী সৈয়দপুর বিউটি সাইকেল স্টোরের মালিক আলতাফ হোসেনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত: ব্যাটারীগুলো আমার ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেনের। সে এই মুহুর্তে সৈয়দপুরে নাই, আসলে পরে ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাটের কাগজপত্র জমা দিয়ে মালগুলো নিয়ে আসবে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করে থানায় খবর দেয় যে, ওই ট্রাকে মাদক আছে। এই খবরের ভিত্তিতে ৯৯৯ এর পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু মাদক থাকার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় বৈধ ব্যাটারীগুলো ছেড়ে দিতে চায়।
এতে ট্রাক আটককারীরা সম্মত না হওয়ায় কাস্টমস্ কে খবর দেয়। তারা এসে ট্রাকসহ বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ব্যাটারীগুলো থানায় এনে গণনার পর জব্দ করে তাদের জিম্মায় নিয়ে গেছে। এবিষয়ে তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।