প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২০, ২০২৬, ১:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:৫৩ পি.এম
সম্পাদকীয় – লাগামহীন অটোরিকশা ও ভ্যান: মৃত্যুর ফাঁদ ও যানজটের মহোৎসব

হাসান মানিক : দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে এখন এক নীরব আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার নাম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অবৈধ ভ্যান। অলিগলি পেরিয়ে এসব অনিয়ন্ত্রিত যান এখন বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রধান প্রধান সড়কে, এমনকি জাতীয় মহাসড়কেও। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্থবির হয়ে পড়ছে তীব্র যানজটে, অন্যদিকে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও এই যানের ধাক্কায় বা উল্টে গিয়ে অকালে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এই নৈরাজ্য আর কতদিন চলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মূলত সাধারণ রিকশা বা ভ্যানে শক্তিশালী মোটর এবং ব্যাটারি যুক্ত করে তৈরি করা হচ্ছে এই অদ্ভুত যানগুলো। এর কোনো বৈজ্ঞানিক বা অনুমোদিত কাঠামো নেই। গতি সাধারণ যানের চেয়ে বহুগুণ বেশি হলেও, এর ব্রেকিং সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল। তীব্র গতিতে থাকা অবস্থায় হুট করে ব্রেক করলেই এই যানগুলো উল্টে যায়। তার ওপর এই যানের চালকদের সিংহভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কোনো রকম প্রশিক্ষণহীন। ট্রাফিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে উল্টো পথে চলা, হুটহাট মোড় নেওয়া এবং প্রধান সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করা এদের নিত্যদিনের অভ্যাস। ফলে দক্ষ চালকেরা সজাগ থাকলেও এই সব যানের খামখেয়ালিপনার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পারছেন না।
উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগের পরও সড়ক থেকে এদের সরানো যাচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের একাংশের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে দিন দিন এদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বর্তমানে এটি শুধু একটি পরিবহণ সমস্যা নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার অটোরিকশা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করছে, যা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপরও ফেলছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব।
আমরা মনে করি, জীবিকার দোহাই দিয়ে সড়কে এই মৃত্যুর মিছিলকে আর প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। মানুষের জীবনের মূল্য যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বেশি। সড়ককে নিরাপদ করতে হলে প্রথমেই প্রধান সড়ক ও মহাসড়ক থেকে অটোরিকশা ও অবৈধ ভ্যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চালকদের জরিমানা বা গাড়ি আটক করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং যেখানে এসব অবৈধ যান তৈরি হচ্ছে এবং যে সব আমদানিকারক এর যন্ত্রাংশ আনছেন, গোড়াতেই সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।
একই সঙ্গে, এই খাতের সাথে জড়িত লাখো মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান বা ট্রাফিক নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট ফিটনেসসহ নিরাপদ ও বৈধ যানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। সড়ককে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে সড়ক সচল করতে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
@Copyright alifnews24.net