রাশেদুজ্জামান সুমন : নীলফামারী জলঢাকায় অতি বৃষ্টির কারণে পাটের ফলন ভালো না হলেও দাম বেশি। গতবারের তুলনায় এবার বেশি জমিতে পাট আবাদ করলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির পাটের ফলন একদম ভালো হয়নি। ফলে কৃষকের কাছে পাট না থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালী আঁশ পাট। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে এবার এক হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় বেশি। মার্চ, এপ্রিলে পাট লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে জাত ভেদে দু এক সপ্তাহ কম বেশি করা যায়। এ অঞ্চলে সাধারণত বি জে আর আই, জে আরও ৮, তোষা, স্হানীয় জাত সহ বিভিন্ন জাতের পাট আবাদ হয়ে থাকে। একশ থেকে একশ ২০ দিনে পাট কেটে জাগ দেয়া যায়। আর দশ দিন জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়ানো হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে এবার অনেক বেশি জমিতে পাটের চাষ করেছিল কৃষকেরা। কিন্তু বীজ বপনের পর থেকে টানা বৃষ্টির কারণে পাট ক্ষেতে পানি জমে থাকার কারণে ফলন একদম ভালো হয়নি। কৈমারির কৃষক লালমিয়া জানান আমি এতিবারে পনের থেকে বিশ মন পাট বিক্রি করি এবার বিশ কেজিও পাট বিক্রি করতে পারবো না। ওই সময়ে বেশি বৃষ্টির কারণে আমার সব পাট ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বালাগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক নাদির জানান, তামাকের জমিতে পাট লাগছিলাম, লাগানোর দুই সপ্তাহ পর বৃষ্টি আর বৃষ্টি। এই কারণে নিরানি করতে পারিনি। জমে থাকা বৃষ্টি কারণে ছোট্ট পাট গাছে শিকর বের হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। শুনেছি প্রতিমন পাট চার হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমি গতবার দশ হাজার টাকার পাট খরি বিক্রি করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন পাট লাগানোর জন্য উপযুক্ত জমি হচ্ছে উচু জায়গা। এবার মার্চ এপ্রিলে বেশি বৃষ্টির পাটের আবাদ ভালো হয়নি। তবে বেশ ভালো দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। আশাকরি সামনের বার কৃষকরা এরাবের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবে।
রাশেদুজ্জামান সুমন