নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় আসমতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন পাতাকুড়ি পার্কে কথিত অবৈধ, অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।
গত ৩০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে কয়া গোলাহাট, সরকারপাড়া, মুজার মোড় ও ওয়াবদা মোড় এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আসমতিয়া দাখিল মাদ্রাসার উত্তর পাশে অবস্থিত পাতাকুড়ি পার্কে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যক্রম চলে আসছে।
আবেদনে বলা হয়, পার্কটিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পার্কের ভেতরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। এ ঘটনায় পার্কসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণ মামলা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পার্কটির পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করায় এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব তাদের পরিবার ও সন্তানদের ওপর পড়ছে। ফলে সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবেদনকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে পার্কে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পার্কে অবৈধ ও অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদনটি দাখিল করেন ‘সচেতন জনতা, সৈয়দপুর’-এর সভাপতি মুফতি মো. গোলাম রব্বানী। আবেদনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. গোলাম রব্বানীসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার স্বাক্ষর রয়েছে।
আবেদনকারীরা জেলা প্রশাসনের কাছে পাতাকুড়ি পার্কের কার্যক্রম তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের বিষয়ে পাতাকুড়ি পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।