
মাইদুল হাসান : নীলফামারীর জলঢাকায় দিনদুপুরে একটি বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিংড়িয়া শিবুরহাট এলাকার গুরুদাসপাড়ায় অটোচালক শ্রী কৃষ্ণ কান্ত রায়ের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় একজন ভ্রাম্যমাণ কাপড় ব্যবসায়ী কাপড় বিক্রি করতে আসেন। এ সময় কৃষ্ণ কান্ত রায়ের স্ত্রী শেফালী রানী রায় ঘরের দরজা এবং বাড়ির সামনের ও পেছনের প্রধান ফটকের ছিটকিনি লাগিয়ে স্থানীয় কয়েকজন নারীর সঙ্গে কাপড় কিনতে যান।
কাপড় কেনার পর টাকা আনার জন্য কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, শয়নকক্ষের একটি ট্রাংক খোলা এবং বাড়িতে প্রবেশের দুটি দরজাও খোলা রয়েছে। পরে ট্রাংকে রাখা তার ব্যবহৃত প্রায় ১০ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ১৮ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে শেফালী রানী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কালীচরণ রায় বলেন, গত দুই দিন ধরে এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। চুরির ঘটনায় ওই দুই যুবক জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। তবে বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় এর আগে এভাবে দিনের বেলায় বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাড়ির মালিক কৃষ্ণ কান্ত রায় বলেন, ‘আমি একজন গরিব মানুষ। কিস্তিতে টাকা নিয়ে অটোরিকশা কিনেছি। সেটি চালিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাই। চোরেরা আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এর আগে কখনো দিনদুপুরে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।