নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দরিদ্র দিনমজুর স্বপন মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের জমিতে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। উন্নত চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
স্বপন মিয়া উপজেলার ৭ নম্বর বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাগডোকরা চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংসার চালানোর মতো সামর্থ্যও এখন তাঁর নেই।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যের জমিতে ছনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে তৈরি একটি ছোট ঘরে স্ত্রী সাহেরা বানুকে নিয়ে বসবাস করছেন স্বপন মিয়া। ঘরটি প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরা। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, ফলে নিরাপদে রাত কাটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঘরের এক কোণে আশ্রয় নিয়ে রাত পার করতে হয় তাঁদের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁদের শেষ সম্বল গরু-ছাগলও বিক্রি করতে হয়েছে। দিনমজুরি করে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চলত। কিন্তু অসুস্থতার কারণে জীবন-জীবিকার পথ সংকুচিত হয়ে আসায় এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো—দুটিই তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের অসহায় অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে স্বপন মিয়া বলেন, “আমি বাঁচতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা কিছু ছিল, সব হারিয়েছি। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব এবং পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের সামান্য সহায়তাও তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের জীবনধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মানবিক বিবেচনায় অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
স্বপন মিয়ার চিকিৎসা ও পরিবারকে সহায়তা করতে আগ্রহীরা তাঁর দেওয়া বিকাশ ও নগদ নম্বরে আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।
সহায়তার জন্য বিকাশ ও নগদ: ০১৭১৩-৭৯৬১৬২
স্বপন মিয়ার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়ভাবে সহায়তার প্রত্যাশী পরিবারটি। তাঁদের আশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় স্বপন মিয়া আবারও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ফিরে পাবেন বেঁচে থাকার নতুন আশা।