
রোববার সকালে নীলফামারী শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয়সংলগ্ন পৌর মার্কেট থেকে চৌরঙ্গী মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
লিফলেটে ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের লোডশেডিংয়ের পরিসংখ্যান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অতীত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সমালোচনা এবং বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করেন নেতাকর্মীরা।
এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোর্শেদ আযম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা জরুরি। এ খাতে অতীতের সিদ্ধান্ত, বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংকট উত্তরণে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে তথ্য জানাতে তাঁদের এ কর্মসূচি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শিয়াবুজ্জামান চৌধুরী শিহাব বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি ও অপব্যয়ের কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। কাগজে-কলমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট দেখানো হলেও জ্বালানি ও অর্থসংকটের কারণে বাস্তবে এর অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাসের উৎপাদন না বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ না করায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে দ্বিতীয় শোধনাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু পারভেজসহ পৌর ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।