জয়নাল আবেদীন হিরো,স্টাফ রিপোর্টারঃ
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন,
গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টিতে বায়োগ্যাস প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক।
‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ,সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল হাজিপাড়ায় প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা ও স্বাগত সভার আয়োজন করা হয়।এ সময় স্থানীয় প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে‘ইমপ্যাক্ট (ফেজ-৩) প্রকল্প,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর,নীলফামারী ও সৈয়দপুর’-এর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।পরে তিনি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়া,ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় জেলার পাঁচজন উপকারভোগীর মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মোট ৭ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,এ ধরনের আর্থিক সহায়তা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি,আত্মকর্মসংস্থান এবং যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট শুধু বিকল্প জ্বালানির উৎস নয়,এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষার একটি কার্যকর প্রযুক্তি।গবাদিপশুর গোবর,হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।এই গ্যাস রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।পাশাপাশি বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট জৈব উপাদান উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।
এর ফলে একদিকে জ্বালানি ব্যয় কমে,অন্যদিকে গোবর ও জৈব বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশদূষণ হ্রাস পায়।গ্রামীণ এলাকায় বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটলে কৃষি,পশুপালন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন,প্রতিমন্ত্রীর এই সফর ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শনের মাধ্যমে নীলফামারী জেলার যুবসমাজের উন্নয়ন,আত্মকর্মসংস্থান এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।বিশেষ করে প্রশিক্ষণ,সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শের সমন্বয় ঘটানো গেলে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলগীর আলম,সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা,সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার,সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা,রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।