মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র দুজন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে শিশুদের পাঠদান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, পাশাপাশি এইসব বিদ্যালয় থেকে কমছে দৈনন্দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
রবিবার ১ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোগডাবুড়ী আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভোগডাবুড়ী পুষণাবাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই দুটি বিদ্যালয়ে ২০২৩ সাল থেকে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয় দুইটিতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার অভিভাবকেরা। তারা আরও বলেন সামনে বার্ষিক পরীক্ষা চলে এসেছে আমাদের সন্তানেরা যে কি ভাবে ফাইনাল পরিক্ষায় উত্তির্ন হবে সেটা একমাত্র উপরওয়ালাই ভালো জানে।

এবিষয়ে ভোগডাবুড়ী আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কারিমুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সাল থেকে তাঁর বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে শিশুদের পাঠদান চলছে এর পাশাপাশি একজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করলেও নতুন শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার পরও আমার বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। এতে করে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পরিশেষে তিনি এই বিদ্যালয়টিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে ভোগডাবুড়ী পুষণাবাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ও দুজন শিক্ষক একজন ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুজন নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন। এতে করে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এবং ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই চলে যাবেন। দ্রুত নতুন শিক্ষক পদায়ন করা না হলে পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তাঁকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি শিক্ষকের চাহিদা পাঠানোর পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের খুবই প্রয়োজন ছিল, তবে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাঁর চিলাহাটি ক্লাস্টারে মোট ৪০ জন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তাঁকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এবিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক সংকটের বিষয়ে তিনি আগে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। বিষয়টি তাঁর জানা থাকলেও বর্তমানে মনে নেই। তবে প্রতিবেদকের মাধ্যমে তিনি নতুন করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এবার ডোমার উপজেলায় মাত্র ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এক-দুজন করে শিক্ষক দেওয়ার পর এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন করা সম্ভব হয়নি।তবে অন্য কোনো বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ডেপুটেশনে দেওয়ার সুযোগ থাকলে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকলেই নয়, সেসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডেপুটেশনে শিক্ষক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
.