আবেদ আলী : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মমিনুর ইসলাম (১৫) নামে এক কিশোর ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার ব্যবহৃত অটোভ্যানটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিহত মমিনুর ইসলাম জলঢাকা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে। সে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি অটোভ্যান চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করত বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেলে মমিনুর অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় উপার্জনের উদ্দেশ্যে। রাত পর্যন্ত সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু সারা রাত খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
শনিবার সকালে কাঠালী ইউনিয়নের হামিদুল মেম্বারের বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত দিনাজপুর ক্যানেলের পূর্ব পাড় সংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থলের আশেপাশে কোথাও তার অটোভ্যান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ধারণা, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে যেতে পারে।
খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে প্রাথমিক তদন্তে কিছুটা অসুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অটোভ্যানটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বগুলাগাড়ী ও কাঠালী এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৭১, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। সম্পাদক : মো মাহাদী হাসান মানিক ।
ইমেইল : maniknews1980@gmail.com ।
Copyright © 2026 My Blog. All rights reserved.