পাশে ফেলে রাখা একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে পৌর শহরের তাতীহাটি নয়াপাড়া এলাকার ঢালিবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। বিকেল পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি একটি বড় ট্রাংক এনে ওই স্থানে রেখে যায়। ট্রাংকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। প্রথমে বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে কিছু সময় পর ট্রাংকের আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এ সময় আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা বিষয়টি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন এবং ট্রাংকটির দিকে নজর দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠলে স্থানীয়রা ধারণা করেন, ট্রাংকের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিক কিছু থাকতে পারে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনা হতে থাকলে কেউ কেউ পুলিশকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ এসে ট্রাংকটি পরীক্ষা করে দেখতে পায়, সেটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এরপর উপস্থিত লোকজনের সামনে ট্রাংকের তালা ভেঙে ভেতরে দেখা যায়, একটি নারীর অর্ধগলিত মরদেহ রাখা রয়েছে। মরদেহটি একটি তোশক ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ট্রাংকের ভেতরে রাখা ছিল।
মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে ওই নারীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে ট্রাংকের মধ্যে ভরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা কোথায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে থাকেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিনা বেগম বলেন, সকালে একটি পিকআপ ভ্যান এসে রাস্তার পাশে ট্রাংকটি নামিয়ে রেখে যায়। কয়েকজন লোক ট্রাংকটি নামিয়ে দ্রুত চলে যায়। তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলে, পরে এসে ট্রাংকটি নিয়ে যাবে। কিন্তু তারা আর ফিরে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু সময় পর ট্রাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পুলিশ এসে ট্রাংকটি খুলে মরদেহ উদ্ধার করে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি তাদের কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ ও রহস্যজনক মনে হয়েছে। এমন ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি বলেও তারা উল্লেখ করেন। অনেকেই মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও ঘটিয়ে মরদেহ এখানে এনে ফেলে রাখা হয়েছে।
শ্রীবরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাংকের ভেতর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং তোশক ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো ছিল।
তিনি জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডটি কোথায় সংঘটিত হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৭১, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। সম্পাদক : মো মাহাদী হাসান মানিক ।
ইমেইল : maniknews1980@gmail.com ।
Copyright © 2026 My Blog. All rights reserved.