নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ সদস্যকে স্থানীয়ভাবে আটকের ঘটনা ঘটেছে। পরে মুচলেকার মাধ্যমে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ডোমার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আতিকুর রহমান বর্তমানে নীলফামারী জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত বলে জানা গেছে। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান পূর্বে ডোমার থানায় কর্মরত থাকাকালে ওই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তাসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি এবং নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ সময় প্রবাসে থাকা এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হয়। কয়েক মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে আইনি পরামর্শের জন্য আদালতে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার শ্বশুরবাড়িতে সন্দেহ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওই নারীকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলাকালে আতিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি ওই নারীকে নিজের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে পরিবারের লোকজন তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়ভাবে মুচলেকা নিয়ে তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই নারী জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং এ সময়ে আতিকুর রহমানের সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, পরিচিতির সূত্র ধরে তিনি ওই পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন। এ সময় ভুল বোঝাবুঝির জেরে তাকে আটকে রাখা হয় বলে তার বক্তব্য।
ডোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে মুচলেকার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নীলফামারী পুলিশ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৭১, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। সম্পাদক : মো মাহাদী হাসান মানিক ।
ইমেইল : maniknews1980@gmail.com ।
Copyright © 2026 My Blog. All rights reserved.