• সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
Headline :
“জনগণ যা চাইবে, সেটাই হবে আইন—নীলফামারীতে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন” নীলফামারীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল জলঢাকায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক নেতা ও পরিবহন মালিকের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন: চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জলঢাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত নীলফামারীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার: তরুণ সমাজ হুমকিতে, নীরব প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন নীলফামারীবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শামীম নীলফামারীবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শামীম নীলফামারীতে অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ জলঢাকার ডালিয়া রোডে অটোচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা লালমনিরহাট সীমান্তে বেড়া নির্মাণের চেষ্টায় বিএসএফকে বাধা দিল বিজিবি

নীলফামারীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার: তরুণ সমাজ হুমকিতে, নীরব প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন

নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক / ৪৭ Time View
Update : সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

নীলফামারী জেলায় উদ্বেগজনক হারে বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন জুয়া। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মোবাইল ফোনভিত্তিক বিভিন্ন বেটিং অ্যাপ, অনলাইন ক্যাসিনো ও স্লট গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছেন কিশোর, যুবক এমনকি অনেক অভিভাবকও। এতে পরিবারে অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম। ক্রিকেট বেটিং, অনলাইন ক্যাসিনো ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার অ্যাপে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ টাকা হাতবদল হচ্ছে। অনেকেই দ্রুত লাভের আশায় এই ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ফলে পরিবারে কলহ, ঋণগ্রস্ততা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের একটি বড় অংশ এই অনলাইন জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের দিকেও ঝুঁকে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও কিছু অসাধু চক্রের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটলেও দৃশ্যমানভাবে কঠোর কোনো অভিযান বা কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সমাজকর্মীরা বলছেন, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি পরিবার, সামাজিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচারণা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নীলফামারীবাসীর দাবি:
✔ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
✔ জুয়ার অ্যাপ ও অবৈধ লেনদেনের নেটওয়ার্ক বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
✔ তরুণ সমাজকে রক্ষায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
✔ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনলাইন জুয়ার এই বিস্তার জেলার সামাজিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category