
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আল-হামুদি সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজারে সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় জ্বালানি, অবকাঠামো, বিমান চলাচল, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও উঠে আসে। এসব খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটির বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছেন। নির্মাণ, পরিবহন, সেবা, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন কারিগরি পেশায় বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা ও কর্মসংস্থান নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে শ্রমবাজারে সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের আলোচনা তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার, এসি ও রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ান, আইটি পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দক্ষ কর্মী আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদাসম্পন্ন। আমিরাতের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্পে এসব দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলে শুধু নতুন কর্মীদের জন্য নয়, বর্তমানে আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্যও কর্মসংস্থানের পরিবেশ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
তবে আলোচনার বিষয়গুলোকে এখনই নতুন ভিসা চালু বা ব্যাপক হারে কর্মী নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগের সংখ্যা, ভিসা নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সনদ অর্জনের মাধ্যমে কর্মীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে এবং দক্ষ কর্মীরা নিরাপদ ও বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।
ডেস্ক রির্পোট 



















