
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
Advertisement
Advertisement
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী সন্ন্যাসীপাড়া (ঘাটেরপাড়) গ্রামের শ্যামল রায়ের ছেলে আকাশ রায় (২২), তার বাবা শ্যামল রায় (৪৫) এবং শ্যামলের স্ত্রী ববিতা রানী রায় (৪২)।
র্যাব জানায়, নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে। এ সময় প্রতিবাদ করায় বাদীকে মারধর করা হয়। তার ডাকচিৎকারে বাবা-মা এগিয়ে এলে আসামিরা তার মাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং বাবাকে মারধর করে আহত করে।
একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তির মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কাজল গীর (২৬) বাদী হয়ে ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ী, গাজীপুর এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীর যৌথ দল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে কাশিমপুর থানাধীন ডেল্টা গার্মেন্টসের বিপরীতে ডেল্টার মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ওই তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটি আরও জানায়, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Advertisement
Advertisement
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক 










