
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর নীলফামারীতে হঠাৎ বেড়ে গেছে পেট্রল ও অকটেনের বিক্রি। প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনতে ভিড় করায় জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তবে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পেট্রল ও অকটেন নেই, কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরছেন গ্রাহকরা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার রশিদা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল ও অকটেন না থাকায় মোটরসাইকেলচালকদের ভিড় জমেছে। তেল না থাকায় অনেকেই অনুরোধ করলেও কাউকে সরবরাহ করতে পারেনি পাম্প কর্তৃপক্ষ।
মাকে-সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই পাম্পের কাছে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে বিপাকে পড়েন শহরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. আরাফাত ইসলাম। তিনি বলেন, “কয়েক দিন ধরে তেল সংকটের গুজব শুনছিলাম, কিন্তু গুরুত্ব দিইনি। আজ বের হয়ে এসে দেখি পাম্পে তেল নেই। শেষ পর্যন্ত এক মোটরসাইকেলচালক কিছু তেল দিয়ে আমাকে শহরে ফিরে যেতে সাহায্য করেছেন।”
রশিদা ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করেই পেট্রল বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ছাড়া অন্য কোনো জ্বালানি নেই। রোববার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে।
শহরের বাদিয়ার মোড় এলাকার মুক্তা ফিলিং স্টেশন ও দেওয়ান ফিলিং স্টেশনেও গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। মুক্তা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, শুক্রবার দুপুর থেকেই পেট্রল ও অকটেনের মজুত শেষ। নতুন সরবরাহ পেলেই বিক্রি শুরু হবে।
দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে ইটাখোলা শাহপাড়ার সেলিম শাহ বলেন, “একটার পর একটা পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। কোথাও তেল নেই, কোথাও আবার পাম্পই বন্ধ।”
অন্যদিকে শহরের পাঁচমাথা এলাকার ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনে প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল বিক্রি করা হচ্ছে। পাম্পটির মালিক বলেন, “জ্বালানির প্রকৃত সংকট নেই, আতঙ্ক থেকেই মানুষ প্রয়োজনের কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছেন। আগে ১০০ টাকার তেল নেওয়া গ্রাহক এখন ১ থেকে ২ হাজার টাকার তেল নিতে চাইছেন। তাই সবাইকে তেল দিতে সীমিত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
কালিতলা এলাকার চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে শুক্রবার দুপুরে পেট্রল শেষ হয়ে গেলেও শনিবার ডিপো থেকে নতুন চালান এসেছে।
এদিকে হঠাৎ সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে অনেক মোটরসাইকেলচালক ও গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পাম্প মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাম্প মালিকরাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, গুজবের কারণে অস্বাভাবিক চাহিদাই সাময়িক সংকটের মূল কারণ।
জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আকতার হোসেন বলেন, “গুজবের কারণে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অস্বাভাবিক পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। আবার শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক পাম্প মালিক সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। যাঁরা আগে পে-অর্ডার করেছিলেন, তাঁরা শনিবার ডিপো থেকে তেল পেয়েছেন। রোববার থেকে সব পাম্পেই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া রয়েছে। রোববার থেকে এসব পাম্পে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি বা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতাই সাময়িক এ সংকটের প্রধান কারণ। তাই গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পেট্রল ও অকটেন নেই, কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরছেন গ্রাহকরা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার রশিদা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল ও অকটেন না থাকায় মোটরসাইকেলচালকদের ভিড় জমেছে। তেল না থাকায় অনেকেই অনুরোধ করলেও কাউকে সরবরাহ করতে পারেনি পাম্প কর্তৃপক্ষ।
মাকে-সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই পাম্পের কাছে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে বিপাকে পড়েন শহরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. আরাফাত ইসলাম। তিনি বলেন, “কয়েক দিন ধরে তেল সংকটের গুজব শুনছিলাম, কিন্তু গুরুত্ব দিইনি। আজ বের হয়ে এসে দেখি পাম্পে তেল নেই। শেষ পর্যন্ত এক মোটরসাইকেলচালক কিছু তেল দিয়ে আমাকে শহরে ফিরে যেতে সাহায্য করেছেন।”
রশিদা ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করেই পেট্রল বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ছাড়া অন্য কোনো জ্বালানি নেই। রোববার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে।
শহরের বাদিয়ার মোড় এলাকার মুক্তা ফিলিং স্টেশন ও দেওয়ান ফিলিং স্টেশনেও গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। মুক্তা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, শুক্রবার দুপুর থেকেই পেট্রল ও অকটেনের মজুত শেষ। নতুন সরবরাহ পেলেই বিক্রি শুরু হবে।
দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে ইটাখোলা শাহপাড়ার সেলিম শাহ বলেন, “একটার পর একটা পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। কোথাও তেল নেই, কোথাও আবার পাম্পই বন্ধ।”
অন্যদিকে শহরের পাঁচমাথা এলাকার ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনে প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল বিক্রি করা হচ্ছে। পাম্পটির মালিক বলেন, “জ্বালানির প্রকৃত সংকট নেই, আতঙ্ক থেকেই মানুষ প্রয়োজনের কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছেন। আগে ১০০ টাকার তেল নেওয়া গ্রাহক এখন ১ থেকে ২ হাজার টাকার তেল নিতে চাইছেন। তাই সবাইকে তেল দিতে সীমিত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
কালিতলা এলাকার চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে শুক্রবার দুপুরে পেট্রল শেষ হয়ে গেলেও শনিবার ডিপো থেকে নতুন চালান এসেছে।
এদিকে হঠাৎ সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে অনেক মোটরসাইকেলচালক ও গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পাম্প মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাম্প মালিকরাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, গুজবের কারণে অস্বাভাবিক চাহিদাই সাময়িক সংকটের মূল কারণ।
জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আকতার হোসেন বলেন, “গুজবের কারণে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অস্বাভাবিক পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। আবার শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক পাম্প মালিক সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। যাঁরা আগে পে-অর্ডার করেছিলেন, তাঁরা শনিবার ডিপো থেকে তেল পেয়েছেন। রোববার থেকে সব পাম্পেই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া রয়েছে। রোববার থেকে এসব পাম্পে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি বা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতাই সাময়িক এ সংকটের প্রধান কারণ। তাই গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক 









