
মাইদুল হাসান
শিশুটির বাবার পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নয়; অন্যদিকে শিশুটির মা ও তার পরিবারের দাবি, পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নালারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের এনামুল হকের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটির মা রেজিনা বেগম বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুটিকে খোঁজা হয়। স্থানীয় দুই যুবক পুকুরে নেমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট খোঁজার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফেরদৌস আলম বলেন, বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি শিশুটির মাকে কান্নাকাটি করে মেয়েকে খুঁজতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাহারাম উদ্দীন জানান, শিশুটির মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর শিশুটির পেট থেকে পানি বের করার চেষ্টা করা হলেও তখন শিশুটি জীবিত ছিল না।
তবে শিশুটির বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে দাবি করা হয়েছে। শিশুটির চাচা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির মা রেজিনা বেগম প্রায় এক মাস ধরে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে পূর্বের বিরোধ এবং থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে অপমৃত্যু বলে মনে করছি না। আমাদের পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য শিশুটিকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে শিশুটির মা রেজিনা বেগম বলেন, তিনি মেয়ের জন্মনিবন্ধনের কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে খোঁজ করলে মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটির বাবা ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি ফিরে এলে তার বক্তব্য নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাইদুল হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি 


















