রংপুর ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
পঞ্চগড়ে ৫৬ বিজিবির অভিযানে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় গরু জব্দ অননুমোদিত হর্ন ব্যবহারে বিআরটিএর কড়া হুশিয়ারি: আইনের ব্যত্যয়ে কঠোর শাস্তির নির্দেশ ফ্যামিলি কার্ড কোনো ভাঁওতাবাজি ছিল না, দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে: এমপি বিলকিস ইসলাম জলঢাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে নীলফামারীতে ‘গানে গানে জুলাই’ চাকরীর দেওয়ার নাম করে ১৭ লাখ টাকা প্রতারণা,গ্রেপ্তার ৪ কঠোর তদারকিতে বদলে গেছে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের চিত্র ডোমারে আবাদী ডাঙ্গা জমির বর্তমান বাজার মূল্য ক্ষতিপূরনের দাবীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে মেডিকা ডিজিটাল ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন মানবতার স্পর্শে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতদরিদ্রদের মুখে হাসি ফুটলো 

এমপির উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উধাও মাইলফলকের নেমপ্লেট, জলঢাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

মাইদুল হাসান : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সংসদ সদস্যের উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মাইলফলকের নেমপ্লেট রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় “গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)” প্রকল্পের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভাবুনচুর বাজার পর্যন্ত ৬৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থের এইচবিবি (HBB) সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৫ টাকা ৫৫ পয়সা। কাজটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দীক। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ৩১ মার্চ ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১০ জুন ২০২৬।

গত শুক্রবার বিকেলে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরই রাতের অন্ধকারে মাইলফলকে স্থাপিত নেমপ্লেটটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা বলে দাবি করছেন, আবার কেউ দুষ্কৃতকারীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহেদুজ্জামান (৬২) বলেন, “এটি সাধারণ চুরির ঘটনা বলে মনে হয় না। নেমপ্লেটটি বিক্রি করাও সম্ভব নয়, আবার কেউ ঘরেও ব্যবহার করবে না। আমার ধারণা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে এমপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।”

ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা এলাকার জন্য লজ্জাজনক। এটি সাধারণ চোরের কাজ বলে মনে হয় না। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন একটি নেমপ্লেট তৈরি করে পুনরায় স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং কয়েক দিন পাহারার ব্যবস্থাও করব।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, “নেমপ্লেট স্থাপনের সময়ই আমার আশঙ্কা ছিল এটি টিকবে না। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্য হলো।”

ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, “প্রকল্পের কাজ শুরু ও উদ্বোধন নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। কাজ শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পর এমপি মহোদয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের রাতেই নেমপ্লেটটি উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেছে। দ্রুত কাজ শেষ করে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কোনো তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদার বলেন, প্রকল্পে সাইনবোর্ড স্থাপনের কথা থাকলেও তা এখনো বসানো হয়নি। শিগগিরই সেটি স্থাপন করা হবে।

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নায়িদুজ্জামান বলেন, “মাইলফলকের নেমপ্লেট উধাও হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারাও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নেমপ্লেট অপসারণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Popular Post

পঞ্চগড়ে ৫৬ বিজিবির অভিযানে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় গরু জব্দ

এমপির উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উধাও মাইলফলকের নেমপ্লেট, জলঢাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

Update Time : ০৫:০১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
মাইদুল হাসান : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সংসদ সদস্যের উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মাইলফলকের নেমপ্লেট রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় “গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)” প্রকল্পের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভাবুনচুর বাজার পর্যন্ত ৬৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থের এইচবিবি (HBB) সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৫ টাকা ৫৫ পয়সা। কাজটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দীক। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ৩১ মার্চ ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১০ জুন ২০২৬।

গত শুক্রবার বিকেলে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরই রাতের অন্ধকারে মাইলফলকে স্থাপিত নেমপ্লেটটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা বলে দাবি করছেন, আবার কেউ দুষ্কৃতকারীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহেদুজ্জামান (৬২) বলেন, “এটি সাধারণ চুরির ঘটনা বলে মনে হয় না। নেমপ্লেটটি বিক্রি করাও সম্ভব নয়, আবার কেউ ঘরেও ব্যবহার করবে না। আমার ধারণা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে এমপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।”

ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা এলাকার জন্য লজ্জাজনক। এটি সাধারণ চোরের কাজ বলে মনে হয় না। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন একটি নেমপ্লেট তৈরি করে পুনরায় স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং কয়েক দিন পাহারার ব্যবস্থাও করব।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, “নেমপ্লেট স্থাপনের সময়ই আমার আশঙ্কা ছিল এটি টিকবে না। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্য হলো।”

ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, “প্রকল্পের কাজ শুরু ও উদ্বোধন নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। কাজ শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পর এমপি মহোদয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের রাতেই নেমপ্লেটটি উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেছে। দ্রুত কাজ শেষ করে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কোনো তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদার বলেন, প্রকল্পে সাইনবোর্ড স্থাপনের কথা থাকলেও তা এখনো বসানো হয়নি। শিগগিরই সেটি স্থাপন করা হবে।

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নায়িদুজ্জামান বলেন, “মাইলফলকের নেমপ্লেট উধাও হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারাও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নেমপ্লেট অপসারণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।