
আবেদ আলী : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা গ্রামের একটি ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, হামলা, বসতবাড়ি দখল ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন সুমাইয়া লতা ও এরশাদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গোলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ২০১৩ সালে আমিনুর রহমানের নিকট থেকে একটি জমি বৈধভাবে ক্রয় করা হলেও জহুরুল ইসলামের একরোখা ও ক্ষমতার প্রভাবে আজ পর্যন্ত দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং জমির দলিল ও অধিকার চাইতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জহুরুল ইসলাম ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্য সুমাইয়া খাতুনকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি ভুক্তভোগীর স্কুলপড়ুয়া মেধাবী নাতনিকেও স্কুলে যাওয়ার পথে উত্যক্ত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া আলী হোসেন, আব্দুল আলিম ও নূরজাহান বেগমের বাড়িতে ভাঙচুর, জমি দখলের অপচেষ্টা এবং চাঁদা দাবির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার বিষয়ে জলঢাকা থানায় লিখিত এজাহার ও অভিযোগ দেওয়া হলেও আসামিরা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে এবং পুনরায় হামলার প্রস্তুতি নেয়। বর্তমানে ওই পরিবারটি নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জহুরুল ইসলাম (পিতা-মৃত জসিম উদ্দিন) ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার নিরীহ ও দুর্বল মানুষের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালাচ্ছেন এবং বিচারক সেজে জমি সংক্রান্ত বিরোধে অপব্যাখ্যা দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা বিএনপি অফিসে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অনুলিপি দলের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক মহলে প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ৪ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হচ্ছে,
পরিবারের ওপর হামলা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসী জহুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বাড়িঘর ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকাবাসীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জহুরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা, ভবিষ্যতে পরিবারটির ওপর যেন কোনো ধরনের হয়রানি, হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার ও শান্তিতে বাঁচার অধিকার ফিরে পেতে দেশবাসী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আবেদ আলী 














