রংপুর ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ চিলাহাটীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শিক্ষার আলো জ্বালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের সাইকেল প্রদান সম্পাদকীয় – লাগামহীন অটোরিকশা ও ভ্যান: মৃত্যুর ফাঁদ ও যানজটের মহোৎসব সৈয়দপুরে বাস থেকে ১০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, একজন আটক  সৈয়দপুরে ট্রাকসহ ৩০০ পিস চায়না ব্যাটারী আটক জলঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জলঢাকায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ

 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ কারেঙ্গাতলী এলাকায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ২০ আগষ্ট রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রতিবন্ধী সেই নারী কারেঙ্গাতলী এলাকার খাইরুল হকের মেয়ে ইতি আক্তার (২০),।
এলাকাবাসীর সুত্রে যানাযায়, অভিযুক্ত যুবক একই গ্রামের মোতালেব হোসেনের পুত্র আরমান হোসেন (২৬) এবং আরমানের সহযোগী চিলাহাটী সাহাপাড়া এলাকার কারিফের পুত্র লাজু(১৫) তারা দুজনেই ঢাকায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন ।
ঘটনার বিষয়ে ইতির ভাবি জানান, আমার স্বামীরা পাঁচ ভাই তাদের প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা বাড়িতে থাকেন। এই বাড়িতে আমার ননদ এবং শ্বশুর-শাশুড়ি থাকে। গতকাল রাত আটটার নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে মেয়ের মা এবং অভিযুক্ত আরমান ও লাজু ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। এরই মধ্যে আরমান এবং লাজু ট্রেন থেকে নেমে যায়। অতঃপর তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাত ১২ঃ৩০ মিনিটের দিকে ইতির ঘরের বেরা কেটে ভিতর প্রবেশ করে। এসময় তারা ইতিকে বিবস্ত্র করে ধর্ষনের চেষ্টা করে। তাদের সাথে ইতি ধস্তাধস্তি এক পর্যায়ে চিৎকার শুরু করে, এসময় বইতিকে ছেড়ে দিয়ে বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমার ননদ তার তৃতীয় নম্বর ভাই সুবেলকে মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। এবং সুবল বাড়িতে এসে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে বাড়ির সকলকে খবর দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমার শ্বশুর বৃদ্ধ মানুষ তিনি ঘুমিয়ে পড়ার কারণে ঘটনার বিষয়ে কোন কিছুই টের পাননি।পরে সবাই এসে শ্বশুরকে ডাক দিয়ে তোলা হয়েছে। আমরা সকলে এসে ইতিকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর আমরা আরমানের দাদিকে বলি যে ছেলেগুলো কোথায়। আরমানের দাদি অস্বীকার করে এবং বলে তারা তো ঢাকা চলে গেছে।অনেক বলাবলি করার পর তিনি অস্বীকার করতেই থাকেন এবং তার পরিবারের সদস্য সকলে আমাদের উপর চড়াও হয় । এমতাবস্থায় আমরা ছেলেটাকে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে ওই ছেলের ব্যাগ পাই। এবং তার এই ব্যাগ দেখার পর তার দাদী চুপ হয়ে যায়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত নারীর ভাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং তিনি জানান যে, তারা এ বিষয়ে মামলা করবেন, এরপর তিনি চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে অবগত করেন। এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।
খবর পেয়ে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বাদশা এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং অভিযুক্তদের কাপড়ের ব্যাগ জব্দ করে। ভুক্তভোগী কে মেডিকেলের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জন্য থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ইতি বলেন, আমি ঘুমায় গেছি, তারা আমার ঘরের বেড়া কেটে ভিতরে ঢুকে আমার মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে এবং রাজু আমাকে ধরে আর আরমান আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বেশি ধস্তাধস্তি এবং চিৎকার করলে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়, পরে আমি আমার ভাইকে খবর দেই।

ঘটনার বিষয়ে ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ জানান, এবিষয়ে ওই মেয়ের ভাই মামলা এজাহার করতেছে, এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Popular Post

জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত

চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ

Update Time : ০৭:২৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ কারেঙ্গাতলী এলাকায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ২০ আগষ্ট রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রতিবন্ধী সেই নারী কারেঙ্গাতলী এলাকার খাইরুল হকের মেয়ে ইতি আক্তার (২০),।
এলাকাবাসীর সুত্রে যানাযায়, অভিযুক্ত যুবক একই গ্রামের মোতালেব হোসেনের পুত্র আরমান হোসেন (২৬) এবং আরমানের সহযোগী চিলাহাটী সাহাপাড়া এলাকার কারিফের পুত্র লাজু(১৫) তারা দুজনেই ঢাকায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন ।
ঘটনার বিষয়ে ইতির ভাবি জানান, আমার স্বামীরা পাঁচ ভাই তাদের প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা বাড়িতে থাকেন। এই বাড়িতে আমার ননদ এবং শ্বশুর-শাশুড়ি থাকে। গতকাল রাত আটটার নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে মেয়ের মা এবং অভিযুক্ত আরমান ও লাজু ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। এরই মধ্যে আরমান এবং লাজু ট্রেন থেকে নেমে যায়। অতঃপর তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাত ১২ঃ৩০ মিনিটের দিকে ইতির ঘরের বেরা কেটে ভিতর প্রবেশ করে। এসময় তারা ইতিকে বিবস্ত্র করে ধর্ষনের চেষ্টা করে। তাদের সাথে ইতি ধস্তাধস্তি এক পর্যায়ে চিৎকার শুরু করে, এসময় বইতিকে ছেড়ে দিয়ে বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমার ননদ তার তৃতীয় নম্বর ভাই সুবেলকে মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। এবং সুবল বাড়িতে এসে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে বাড়ির সকলকে খবর দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমার শ্বশুর বৃদ্ধ মানুষ তিনি ঘুমিয়ে পড়ার কারণে ঘটনার বিষয়ে কোন কিছুই টের পাননি।পরে সবাই এসে শ্বশুরকে ডাক দিয়ে তোলা হয়েছে। আমরা সকলে এসে ইতিকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর আমরা আরমানের দাদিকে বলি যে ছেলেগুলো কোথায়। আরমানের দাদি অস্বীকার করে এবং বলে তারা তো ঢাকা চলে গেছে।অনেক বলাবলি করার পর তিনি অস্বীকার করতেই থাকেন এবং তার পরিবারের সদস্য সকলে আমাদের উপর চড়াও হয় । এমতাবস্থায় আমরা ছেলেটাকে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে ওই ছেলের ব্যাগ পাই। এবং তার এই ব্যাগ দেখার পর তার দাদী চুপ হয়ে যায়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত নারীর ভাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং তিনি জানান যে, তারা এ বিষয়ে মামলা করবেন, এরপর তিনি চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে অবগত করেন। এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।
খবর পেয়ে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বাদশা এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং অভিযুক্তদের কাপড়ের ব্যাগ জব্দ করে। ভুক্তভোগী কে মেডিকেলের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জন্য থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ইতি বলেন, আমি ঘুমায় গেছি, তারা আমার ঘরের বেড়া কেটে ভিতরে ঢুকে আমার মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে এবং রাজু আমাকে ধরে আর আরমান আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বেশি ধস্তাধস্তি এবং চিৎকার করলে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়, পরে আমি আমার ভাইকে খবর দেই।

ঘটনার বিষয়ে ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ জানান, এবিষয়ে ওই মেয়ের ভাই মামলা এজাহার করতেছে, এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।