রংপুর ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগদীশ চন্দ্রের সমর্থন কামনা ছাত্রদল নেতা দিপুর উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংকোচনের প্রতিবাদ,কমিটি পুনর্গঠনের দাবি  রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ডোমারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবের মরদেহ মিললো নীলফামারীর ডিমলায় জলঢাকায় ৩৮ বছর শিক্ষকতার পর অবসর, রেজাউল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা জলঢাকায় শিক্ষক রেজাউল করিম খাঁনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নীলফামারীর সাংবাদিকদের মতবিনিময় ডোমারে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক জলঢাকায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নেই সম্ভব, প্রয়োজন পানির রিজার্ভার: তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

  • আবেদ আলী
  • Update Time : ০৩:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২০২ Time View

আবেদ আলী : দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বর্তমান সরকারের তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে তাঁরা তিস্তা ব্যারেজ ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

​পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরি এ্যানি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

​ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু সাংবাদিকদের জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। তবে এই মেগা প্রজেক্টের জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারি তহবিল (জিওবি ফান্ড) থেকেই এই অর্থ সংস্থান সম্ভব।

​মন্ত্রী দুলু বলেন, “এই মহাপরিকল্পনার মেয়াদ ১০ বছর এবং এটি দুই স্তরে বাস্তবায়িত হবে। ফলে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এটি করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের উচ্চতর জ্ঞানসম্পন্নদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যেতে পারে।

​উজানের পানি প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাঙ্ক্ষিত পানি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হলেও শুকনা মৌসুমে যদি পানি না পাওয়া যায়, তবে এই মহাপরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার জন্য ডিজাইনের মধ্যে ‘পানির রিজার্ভার’ তৈরি করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন।”

​এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু চলমান কিছু আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, “দীর্ঘদিন যখন তিস্তার চরের সাধারণ মানুষকে নিয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করেছে, তখন তাদের একদিনও পাশে পাওয়া যায়নি। এখন কাজ রেডি দেখে অনেকে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

​এর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দুপুরে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা তাঁদের স্বাগত জানান। ব্যারেজের সার্বিক পরিস্থিতি ও সেচ কার্যক্রম পরিদর্শনের পর তাঁরা তিস্তা অবসর হলরুমে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

​সভায় তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেন মন্ত্রীরা।

​উক্ত মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জলঢাকা, ডিমলা ও হাতীবান্ধা উপজেলার স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

​তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার রাজারহাট ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী, দুন্দিবাড়ি সেচখাল ও দিনাজপুর সেচ খাল এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

​এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular Post

শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগদীশ চন্দ্রের সমর্থন কামনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নেই সম্ভব, প্রয়োজন পানির রিজার্ভার: তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৩:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

আবেদ আলী : দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বর্তমান সরকারের তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে তাঁরা তিস্তা ব্যারেজ ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

​পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরি এ্যানি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

​ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু সাংবাদিকদের জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। তবে এই মেগা প্রজেক্টের জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারি তহবিল (জিওবি ফান্ড) থেকেই এই অর্থ সংস্থান সম্ভব।

​মন্ত্রী দুলু বলেন, “এই মহাপরিকল্পনার মেয়াদ ১০ বছর এবং এটি দুই স্তরে বাস্তবায়িত হবে। ফলে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এটি করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের উচ্চতর জ্ঞানসম্পন্নদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যেতে পারে।

​উজানের পানি প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাঙ্ক্ষিত পানি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হলেও শুকনা মৌসুমে যদি পানি না পাওয়া যায়, তবে এই মহাপরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার জন্য ডিজাইনের মধ্যে ‘পানির রিজার্ভার’ তৈরি করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন।”

​এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু চলমান কিছু আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, “দীর্ঘদিন যখন তিস্তার চরের সাধারণ মানুষকে নিয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করেছে, তখন তাদের একদিনও পাশে পাওয়া যায়নি। এখন কাজ রেডি দেখে অনেকে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

​এর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দুপুরে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা তাঁদের স্বাগত জানান। ব্যারেজের সার্বিক পরিস্থিতি ও সেচ কার্যক্রম পরিদর্শনের পর তাঁরা তিস্তা অবসর হলরুমে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

​সভায় তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেন মন্ত্রীরা।

​উক্ত মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জলঢাকা, ডিমলা ও হাতীবান্ধা উপজেলার স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

​তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার রাজারহাট ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী, দুন্দিবাড়ি সেচখাল ও দিনাজপুর সেচ খাল এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

​এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।