রংপুর ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জলঢাকায় ফ‍্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন নীলফামারী চেম্বারের নির্বাচনে মাহবুব রহমান সভাপতি নির্বাচিত চিলাহাটিতে ৪৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রেজাউল গ্রেফতার জলঢাকায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য ও ষাণ্মাসিক ফলাফল উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ চিলাহাটীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শিক্ষার আলো জ্বালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের সাইকেল প্রদান

সংস্কার কাজে বছর যেতেই বুড়ি তিস্তা রক্ষা বাঁধে ধস: বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জনদুর্ভোগ চরমে

  • আবেদ আলী
  • Update Time : ০৯:২০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১৯৪ Time View

আবেদ আলী :  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার এক বছরের মাথায় আবারো বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন বেহাল দশায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার আতঙ্কে দিন পার করছেন তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং স্থানীয় বালু সিন্ডিকেটের অবাধে টলি চলাচলের কারণেই বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নে বুড়ি তিস্তা নদী খননের পাশাপাশি, ঘাটের পাড় থেকে ডাউয়াবাড়ী পর্যন্ত ডান ও বাম তীর বাধ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কারের কাজ করা হয়েছিল।

এই বাঁধটি স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান পথ হলেও সংস্কারের মাত্র এক বছরের মাথায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরে মাটি ধসে গেছে। যা বৃষ্টির তোড়ে যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

​সংবাদকর্মীদের দেখে কাছে এসে পথচারী আইনুল হক, আশরাফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা সবসময় এই বাঁধের উপর দিয়েই চলাচল করি, কিন্তু বাধের কাজ শুরু এবং শেষ অবধি কাজের কোনো সাইনবোর্ড আমাদের চোখে পড়েনি। বাঁধ সংস্কার কাজ ব্যাপক অনিয়মের কারণেই টেকসই হয়নি এই অবকাঠামো। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট। তারা বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন এবং অবাধে টলি (ট্রাক্টর) চলাচলের ফলে বাঁধের উপর বিশাল গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদ করেও এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

​কলনি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, “এমনিতেই বাঁধের অবস্থা নাজুক, তার ওপর এসব ভারী টলি প্রতিনিয়ত চলায় বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি।

​মোরশেদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাস্তাগুলোর অবস্থা বেহাল হওয়ায় হাট-বাজারে যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিরিক্ত ভারবাহী টলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ এই সড়ক ও বাঁধগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

​এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২৫ কিলোমিটারের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়েছে। তবে বর্তমানে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও টলি চলাচল বন্ধে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার ও নজরদারি জোরদার না করলে সামনের বর্ষায় বাঁধটি ভেঙে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়বে পুরো অঞ্চল।

 

Popular Post

উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ

সংস্কার কাজে বছর যেতেই বুড়ি তিস্তা রক্ষা বাঁধে ধস: বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জনদুর্ভোগ চরমে

Update Time : ০৯:২০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

আবেদ আলী :  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার এক বছরের মাথায় আবারো বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন বেহাল দশায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার আতঙ্কে দিন পার করছেন তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং স্থানীয় বালু সিন্ডিকেটের অবাধে টলি চলাচলের কারণেই বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নে বুড়ি তিস্তা নদী খননের পাশাপাশি, ঘাটের পাড় থেকে ডাউয়াবাড়ী পর্যন্ত ডান ও বাম তীর বাধ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কারের কাজ করা হয়েছিল।

এই বাঁধটি স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান পথ হলেও সংস্কারের মাত্র এক বছরের মাথায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরে মাটি ধসে গেছে। যা বৃষ্টির তোড়ে যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

​সংবাদকর্মীদের দেখে কাছে এসে পথচারী আইনুল হক, আশরাফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা সবসময় এই বাঁধের উপর দিয়েই চলাচল করি, কিন্তু বাধের কাজ শুরু এবং শেষ অবধি কাজের কোনো সাইনবোর্ড আমাদের চোখে পড়েনি। বাঁধ সংস্কার কাজ ব্যাপক অনিয়মের কারণেই টেকসই হয়নি এই অবকাঠামো। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট। তারা বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন এবং অবাধে টলি (ট্রাক্টর) চলাচলের ফলে বাঁধের উপর বিশাল গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদ করেও এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

​কলনি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, “এমনিতেই বাঁধের অবস্থা নাজুক, তার ওপর এসব ভারী টলি প্রতিনিয়ত চলায় বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি।

​মোরশেদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাস্তাগুলোর অবস্থা বেহাল হওয়ায় হাট-বাজারে যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিরিক্ত ভারবাহী টলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ এই সড়ক ও বাঁধগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

​এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২৫ কিলোমিটারের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়েছে। তবে বর্তমানে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও টলি চলাচল বন্ধে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার ও নজরদারি জোরদার না করলে সামনের বর্ষায় বাঁধটি ভেঙে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়বে পুরো অঞ্চল।