রংপুর ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
মৃত্যুর একযুগ পেরিয়ে গেলেও অমর হয়ে রয়েছেন ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান খোকন নাঈমের উদ্যোগে বদলে গেছে মাদকের অভণ্যনগর কমোর ঢুলার মোড়ে মাদক ব্যবসা বড় মাঠ দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান স্বস্তি খেলোয়াড়-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে, ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল প্রশাসন নতুন কুঁড়ি ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ডোমারের মেয়ে অথৈ ডোমার উপজেলায় এসএসসির ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬০ জন শিক্ষার্থী আবারও বাড়তে পারে ভোজ্যতেলের দাম, লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নেবে ৪৮ জন পঞ্চগড় সীমান্তে ১৩ হাজার ট্যাপেন্টাডল আটক বিদ্যুতের অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারে গুরুত্বারোপ বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবসে নীলফামারীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

নাঈমের উদ্যোগে বদলে গেছে মাদকের অভণ্যনগর কমোর ঢুলার মোড়ে মাদক ব্যবসা

জয়নাল আবেদীন হিরো,স্টাফ রিপোর্টারঃ

একসময় সন্ধ্যা নামলেই অপরিচিত মানুষের আনাগোনা,মাদকের কেনাবেচা আর নানা অপরাধের আতঙ্কে দিন কাটত নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের কমোর ঢুলার মোড় এলাকার বাসিন্দাদের।মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ হয়ে উঠেছিল অস্বস্তিকর।এমনকি কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তি এলাকায় এলেই মাদকের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও ছিল।

সেই চিত্র বদলাতে সচেতন নাগরিক ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নাঈম হোসেন নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তিনি।স্থানীয়দের পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কমোর ঢুলার মোড় এলাকায় মাদক ব্যবসার দৃশ্যমান তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বেলাইচন্ডি ও বাঙালীপুর ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে দুই জেলার সীমান্তঘেঁষা লক্ষণপুর বালাপাড়া ও কমোর ঢুলার মোড় বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল।স্থানীয়দের দাবি,ওই এলাকায় প্রায় ৪৫ জন নারী-পুরুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।হেরোইন,বাবা,তাপাল, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে নাঈম প্রথমে এলাকার যুবক ও বয়স্কদের নিয়ে একটি সভা করেন।সভায় উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এরপর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হয়।পরে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজার মাধ্যমে কমোর ঢুলার মোড়ে মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল

করিম রেজা বলেন,এলাকাবাসী পাশে থাকলে এই গ্রামে কোনো মাদক ব্যবসায়ী থাকবে না।তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,মাদকের কারণে শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়,অনেক পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়ছিলেন।এতে পারিবারিক কলহের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নাঈম হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কমোর ঢুলার মোড় এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি ছিল।প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই যেন মাদকের রমরমা ব্যবসা চলত।কোনো আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত ব্যক্তি এলাকায় এলে সরাসরি মাদকের প্রস্তাব দেওয়া হতো-মাল লাগবে নাকি।

তিনি আরও বলেন,মাদক ব্যবসার কারণে আমাদের এলাকার বদনাম ছড়িয়ে পড়েছিল।ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে এলাকার নাম শুনে অনেকে পিছিয়ে যেতেন।এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছি।কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।এখন আগের মতো অপরিচিত মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ে না,মাদক বিক্রিও চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন,এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশ সবসময় জনগণকে পাশে চায়।কমোর ঢুলার মোড়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ফলে যে পরিবর্তন এসেছে,তা বড় একটি সাফল্য।গ্রামবাসীর মাদকবিরোধী লড়াইয়ের সঙ্গে পুলিশ সবসময় ছিল,আছে এবং থাকবে।

তিনি আরও বলেন,গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ মাদকমুক্ত পরিবেশ ধরে রাখতে কাজ করবে।কোথাও মাদক ব্যবসা বা মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়-জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ,সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে দেশে

দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো থেকেও মাদক নির্মূল করা সম্ভব।কমোর ঢুলার মোড়ের উদ্যোগটি সেই পথের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

Popular Post

মৃত্যুর একযুগ পেরিয়ে গেলেও অমর হয়ে রয়েছেন ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান খোকন

নাঈমের উদ্যোগে বদলে গেছে মাদকের অভণ্যনগর কমোর ঢুলার মোড়ে মাদক ব্যবসা

Update Time : ০৬:২৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জয়নাল আবেদীন হিরো,স্টাফ রিপোর্টারঃ

একসময় সন্ধ্যা নামলেই অপরিচিত মানুষের আনাগোনা,মাদকের কেনাবেচা আর নানা অপরাধের আতঙ্কে দিন কাটত নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের কমোর ঢুলার মোড় এলাকার বাসিন্দাদের।মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ হয়ে উঠেছিল অস্বস্তিকর।এমনকি কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তি এলাকায় এলেই মাদকের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও ছিল।

সেই চিত্র বদলাতে সচেতন নাগরিক ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নাঈম হোসেন নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তিনি।স্থানীয়দের পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কমোর ঢুলার মোড় এলাকায় মাদক ব্যবসার দৃশ্যমান তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বেলাইচন্ডি ও বাঙালীপুর ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে দুই জেলার সীমান্তঘেঁষা লক্ষণপুর বালাপাড়া ও কমোর ঢুলার মোড় বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল।স্থানীয়দের দাবি,ওই এলাকায় প্রায় ৪৫ জন নারী-পুরুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।হেরোইন,বাবা,তাপাল, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে নাঈম প্রথমে এলাকার যুবক ও বয়স্কদের নিয়ে একটি সভা করেন।সভায় উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এরপর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হয়।পরে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজার মাধ্যমে কমোর ঢুলার মোড়ে মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল

করিম রেজা বলেন,এলাকাবাসী পাশে থাকলে এই গ্রামে কোনো মাদক ব্যবসায়ী থাকবে না।তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,মাদকের কারণে শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়,অনেক পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়ছিলেন।এতে পারিবারিক কলহের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নাঈম হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কমোর ঢুলার মোড় এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি ছিল।প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই যেন মাদকের রমরমা ব্যবসা চলত।কোনো আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত ব্যক্তি এলাকায় এলে সরাসরি মাদকের প্রস্তাব দেওয়া হতো-মাল লাগবে নাকি।

তিনি আরও বলেন,মাদক ব্যবসার কারণে আমাদের এলাকার বদনাম ছড়িয়ে পড়েছিল।ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে এলাকার নাম শুনে অনেকে পিছিয়ে যেতেন।এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছি।কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।এখন আগের মতো অপরিচিত মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ে না,মাদক বিক্রিও চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন,এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশ সবসময় জনগণকে পাশে চায়।কমোর ঢুলার মোড়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ফলে যে পরিবর্তন এসেছে,তা বড় একটি সাফল্য।গ্রামবাসীর মাদকবিরোধী লড়াইয়ের সঙ্গে পুলিশ সবসময় ছিল,আছে এবং থাকবে।

তিনি আরও বলেন,গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ মাদকমুক্ত পরিবেশ ধরে রাখতে কাজ করবে।কোথাও মাদক ব্যবসা বা মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়-জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ,সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে দেশে

দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো থেকেও মাদক নির্মূল করা সম্ভব।কমোর ঢুলার মোড়ের উদ্যোগটি সেই পথের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।