
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে মিষ্টি সুরের গানের পাখি দোয়েল ও টুনটুনি।
এই পাখি দুইটি অত্যন্ত অস্থির মতি, সারাদিন এ ডাল থেকে ও ডালে ছোটাছুটি, একদন্ড বসে থাকার উপায় নেই এদের। বুক ফুলিয়ে গানের সুরে ডেকে বেড়াতো এরা, একদশক আগেও ছিল আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েলের উপস্থিতি। অথচ বর্তমানে খুব কমই চোখে পড়ে এই পাখিদের। শহরের বহুতল ভবনে ও গ্রামগঞ্জের গাছের ভিতরের ফাঁকা অংশে খর কুঠা দিয়ে দোয়েল পাখিকে বাসা বানাতে দেখা যেত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জঙ্গল, গাছপালা ও ঘাসজমি কেটে ফেলার কারণে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান সংকটের কারণে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ কমে যাচ্ছে গানের পাখি দোয়েল ও টুনটুনির সংখ্যা।
টুনটুনি পাখিকে বেশির ভাগই বাসা বাধতে দেখা যেত ডুমুর ও কদম গাছের চারায় যা মাটি হতে দেড় থেকে তিন ফুট লম্বা গাছের মধ্যে, আবার নতুন গাছের পাতায়ও বাসা বাধতে দেখা যেত। এছাড়াও ডুমুর ও কদম গাছের পাতাকে ভাজ করে মাকড়াসার জালের সুতা দিয়ে সেলাই করে সুন্দর করে বাসা তৈরি করার কারণে টুনটুনি পাখিকে দর্জি পাখি বলা হয়।
এবিষয়ে কথা হয় চিলাহাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি মাহবুবুল হক ওহাবুলের সাথে, এসময় তিনি বলেন, এইতো কয়েক বছর আগেও মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো পাখির ডাকে, তখন বোঝা যেত ভোর হয়েছে, এবং পাখির কলকাকলীই বলে দিত এখন সকাল হয়েছে এবং সেই ডাকেই মানুষের কর্মময় জীবনের শুরু হয় দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা মধ্যে দিয়ে। এখন দিন দিন পাখির ডাক যেন হারিয়ে যাচ্ছে গাছ গাছালিতে পাখি ডাক নেই, কলকাকলী নেই, মনে হয় এই পাখিগুলো দেখা এখন দূর্লভ বস্তুুতে পরিনত হয়েছে। দোয়েল ও টুনটুনি পাখির যে বড়ই অভাব সেইটি বুঝতে পারা যাবে তখনি যখন দোয়েল ও টুনটুনি পাখি নতুন প্রজন্মদের বাস্তবে দেখানো সম্ভব হবে না। তখন শতচেষ্টা করেও সন্ধান মেলানো যাবে না এই পাখিগুলোর। তাদেরকে ছবি দেখিয়ে পাখিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
এমন একটা সময় ছিল যে সময় মাঠে–ঘাটে, বনে-জঙ্গলে গাছে গাছে এই পাখিগুলোর বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো, অথচ কালের বিবর্তনে সেই চিরচেনা পাখিগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।
এবিষয়ে কথা হয় সহকারী শিক্ষিকা সুরভী আক্তারের সাথে, তিনি বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতির সাথে জড়িত যে সব পাখির ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধ করত সেই পাখিগুলো ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে দোয়েল ও টুনটুনি পাখির আজকাল দেখাই মিলছে না। প্রতিদিন সকালে পাখিদের কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠত গ্রামের ঝোপে ঝাড়ে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙ্গত, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই খাবারের সন্ধানে ছুটে যেত মাঠে ঘাটে, ক্ষেত খামারে অসংখ্য পাখি।
এবিষয়ে এলাকার কয়েকজন মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে দোয়েল টুনটুনিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির শীষ এখন আর শোনা যায় না। দুপুর ও সন্ধ্যায় বাঁশঝাড়ে, আমের ডালে, সজিনা গাছে, শিম গাছ, লাউ গাছ, ঝিঙ্গা গাছ ও বাড়ির ছাদে যে পাখি দেখা যেত, সেই পাখি আর চোখে পড়ে না এবং শোনাও যায় না পাখিদের কলকাকলী।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আগে অধিকাংশ বাড়িতেই ছিল খাম ও সিলিং, কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখনকার নিত্য নতুন ডিজাইনের বাড়িগুলোতে সেগুলো না থাকায় বাসস্থান হারাচ্ছে অনেক প্রজাতির পাখি। আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মারাও যাচ্ছে অনেক পাখি, পোকামাকড়। এ কারণে পাখিদের খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। পাখির বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে তাদের জীবন বাঁচায়,এই পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে গিয়ে তাদের জীবনধারণ ও হুমকির মুখে। তাছাড়া জলাশয়ের কারণেও পাখির সংখ্যা দিনে কমে যাচ্ছে।
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারী 


















