রংপুর ০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র,গড়ে উঠেছে ছাগল ও হাঁসের খামার সৈয়দপুরে দুর্ধর্ষ চুরি, তালা ভেঙ্গে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট নীলফামারীতে শুরু হলো প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ নীলফামারীতে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী বেইমান–সুবিধাবাদীদের ‘আগাছা’ পরিষ্কারের ডাক, নীলফামারী বিএনপিতে শুদ্ধির বার্তা তুহিনের নীলফামারীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা জলঢাকায় দলিল লেখক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, পরে মিমাংসার দাবি ১শত ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চিলাহাটি দৃষ্টিনন্দন স্টেশন এখন অবহেলিত কলেজে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ডোমারে কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী রুপা গ্রেফতার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র,গড়ে উঠেছে ছাগল ও হাঁসের খামার

 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দায়সারা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেভাবে সোচ্চার, সেখানে ওই কেন্দ্রে কর্মরত ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র রায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘাস লাগিয়ে ডেঙ্গু ও পোকামাকড়ের অভয়াশ্রম, ছাগল, কবুতর ও হাঁসের খামারে পরিনত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর অভিযোগের সুত্র ধরে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে আরও দেখা যায় গবাদি পশু খাদ্য হিসেবে কেন্দ্রের সমুখে দুই পার্শ্বে ঘাস লাগিয়ে পোকামাকড়ের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি কেন্দ্রটিকে ভুতুড়ে বাড়ি বানিয়ে রেখেছে। রাস্তা দিয়ে গেলে দেখে মনে হবে এটি কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নয়, এটি একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যাক্ত ও অপরিচ্ছন্ন একটি বিল্ডিং চারিদিকে শুধু জঙ্গল আর ময়লায় আচ্ছন্ন। ফার্মাসিস্ট পলাশ কেন্দ্রটিতে এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের নামে ছাগলের খামার এবং কেন্দ্রের ছাঁদের উপরে হাঁস ও কবুতরের খামার তৈরি করেছে।

মানুষের বসার বেঞ্চ ও চেয়ার, টেবিল এখন ছাগলের বসার জায়গায় পরিনত হয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহের ৬দিন কেন্দ্রটি খোলা রাখার কথা থাকলেও সেখানে সপ্তাহের তিন দিন প্রতিষ্ঠানটি খোলা রাখে তাও আবার দুপুর ১টার পর। কেন্দ্রটি ঠিকমতো খোলা না থাকার কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে কেন্দ্রটির পরিবেশ এতোটাই নোংরা যে ঘরের মেঝেতে ছাগলের বর্জ্য, হাস মুরগীর বিষ্টা থেকে প্রতি মূহুর্তে দূগন্ধ ছড়াচ্ছে যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবার চরম বিপর্ষয়। কেন্দ্রটি বর্তমানে গোয়াল ঘরে পরিনত করেছে।

এলাকাবাসী পলাশকে একাধিকবার এসব বিষয়ে অবগত করলেও সে নিজের ইচ্ছে মতো কাউরে কথার তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে রীতিমতো ব্যবসা করে আসছে।
অথচ এমন একটা সময় ছিল যে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের এই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারি প্রদানে উপজেলার শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। অথচ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কি বেহাল দশার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে যা দেখার কেউ নেই। যেখানে সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর, সেখানে এরকম কিছু অসৎ কর্মচারীর জন্য সরকারকে প্রতি মূহুর্তে জন্য বদনামের ঘানি টানতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, এই পলাশ চন্দ্রকে একাধিক বার বলার পরেও সে আমাদেরকে বলে এটা আমার পরিবার এখানে আমার পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে যা যা করা দরকার আমি তাই তাই করবো। আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতি দিয়েছে, তার কথায় আমি এখানে খামার তৈরি করেছি। আমরা যদি তাকে বলি এটা সেবা কেন্দ্র এখানে এসব চলবে না তখন সে আমাদেরকে বলে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তোমাদেরকে জেল খাটাবো। এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন কোন ক্ষমতার বলে সে এমন প্রভাব দেখিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমত যা ইচ্ছে তাই করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস সুত্রে যানাযায়, পলাশ চন্দ্র এর আগে যে জায়গায় চাকুরী করেছিল সেখানেও সে এমন নিয়ম বর্হিরভুত অনিয়ম, দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারীতা এবং নিজের বর্বরতার কারণে তাকে স্টান্ড রিলিজ করে ডোমারে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একজন গৃহিণী জানান, পলাশ সর্বদাই কেন্দ্রের মূল গেটটি বন্ধ করে রাখেন। ছোট পকেট গেটটি ও খোলা রাখেননা তার ছাগল বাইরে বের হয়ে যাবে বলে সেটিও প্রায়ই বন্ধ থাকে। কাউকে ভেতরে ঢুকতে হলে গেটটি চাপ দিয়ে খুলে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।
এবিষয়ে ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এবং উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য তাকদীরুল আহসান সোহেল জানান, কেন্দ্রটি আমার বাড়ির পাশে, আমি দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি পলাশ ছাদের উপরে ছাগল ও হাঁসের খামার বানিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনের জায়গায় ঘাস চাষ করে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি কেন্দ্রটিকে ডেঙ্গুর বংশ বিস্তার ও পোকামাকড়ের অভয়াশ্রমে পরিনত করেছে। এছাড়া আমি নিজেও আমার সন্তানকে টিকা দিতে আসলে মূল গেটটি বন্ধ পাই। পরে ছোট গেট দিয়ে ঢুকে সন্তানকে টিকা দিই। অর্থাৎ মূল গেটটি সবসময় বন্ধ থাকে। এলাকাবাসী আমাকে অভিযোগ জানালে আমি পলাশকে ছাগল হাঁস কবুতর পালনের বিষয়ে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে আমার কথা কোন কর্ণপাতেই করছেনা। আজকে আমি নিজেও কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে দেখি মেঝেতে ছাগলের পায়খানা এবং হাস মুরগীর বিষ্টা দিয়ে মেঝেটা নোংরা হয়ে দূগন্ধ ছড়াচ্ছে যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার জন্য চরম বিপদজনক। আমি একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এই কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য অথচ পলাশ আমাকেও মূল্যায়ন করছেনা। নিশ্চয় তার পিছনে বড় শক্তি কাজ করছে। তিনি আরও জানান, পলাশ এখানে চাকরির পাশাপাশি নিজে ঔষুধের দোকানের অন্তরালে দাদন ব্যবসা পরিচালনা করছে।
এবিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, ‘ছাগল পালনের বিষয়টি সম্পর্কে আমি আমার উপজেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।’

এবিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, আপনি বললেন যেহেতু আমি খুব দ্রুত পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।’

নীলফামারী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল কামাল মুঠোফোনে জানান, আমি এ বিষয়ে পূর্ব থেকে কিছু জানি না। আমাকে কিছু জানানো হয়নি এখন আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি অবগত হলাম, আমি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানাবো তিনি সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেবেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

Popular Post

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র,গড়ে উঠেছে ছাগল ও হাঁসের খামার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র,গড়ে উঠেছে ছাগল ও হাঁসের খামার

Update Time : ০৪:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দায়সারা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেভাবে সোচ্চার, সেখানে ওই কেন্দ্রে কর্মরত ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র রায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘাস লাগিয়ে ডেঙ্গু ও পোকামাকড়ের অভয়াশ্রম, ছাগল, কবুতর ও হাঁসের খামারে পরিনত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর অভিযোগের সুত্র ধরে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে আরও দেখা যায় গবাদি পশু খাদ্য হিসেবে কেন্দ্রের সমুখে দুই পার্শ্বে ঘাস লাগিয়ে পোকামাকড়ের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি কেন্দ্রটিকে ভুতুড়ে বাড়ি বানিয়ে রেখেছে। রাস্তা দিয়ে গেলে দেখে মনে হবে এটি কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নয়, এটি একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যাক্ত ও অপরিচ্ছন্ন একটি বিল্ডিং চারিদিকে শুধু জঙ্গল আর ময়লায় আচ্ছন্ন। ফার্মাসিস্ট পলাশ কেন্দ্রটিতে এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের নামে ছাগলের খামার এবং কেন্দ্রের ছাঁদের উপরে হাঁস ও কবুতরের খামার তৈরি করেছে।

মানুষের বসার বেঞ্চ ও চেয়ার, টেবিল এখন ছাগলের বসার জায়গায় পরিনত হয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহের ৬দিন কেন্দ্রটি খোলা রাখার কথা থাকলেও সেখানে সপ্তাহের তিন দিন প্রতিষ্ঠানটি খোলা রাখে তাও আবার দুপুর ১টার পর। কেন্দ্রটি ঠিকমতো খোলা না থাকার কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে কেন্দ্রটির পরিবেশ এতোটাই নোংরা যে ঘরের মেঝেতে ছাগলের বর্জ্য, হাস মুরগীর বিষ্টা থেকে প্রতি মূহুর্তে দূগন্ধ ছড়াচ্ছে যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবার চরম বিপর্ষয়। কেন্দ্রটি বর্তমানে গোয়াল ঘরে পরিনত করেছে।

এলাকাবাসী পলাশকে একাধিকবার এসব বিষয়ে অবগত করলেও সে নিজের ইচ্ছে মতো কাউরে কথার তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে রীতিমতো ব্যবসা করে আসছে।
অথচ এমন একটা সময় ছিল যে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের এই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারি প্রদানে উপজেলার শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। অথচ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কি বেহাল দশার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে যা দেখার কেউ নেই। যেখানে সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর, সেখানে এরকম কিছু অসৎ কর্মচারীর জন্য সরকারকে প্রতি মূহুর্তে জন্য বদনামের ঘানি টানতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, এই পলাশ চন্দ্রকে একাধিক বার বলার পরেও সে আমাদেরকে বলে এটা আমার পরিবার এখানে আমার পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে যা যা করা দরকার আমি তাই তাই করবো। আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতি দিয়েছে, তার কথায় আমি এখানে খামার তৈরি করেছি। আমরা যদি তাকে বলি এটা সেবা কেন্দ্র এখানে এসব চলবে না তখন সে আমাদেরকে বলে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তোমাদেরকে জেল খাটাবো। এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন কোন ক্ষমতার বলে সে এমন প্রভাব দেখিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমত যা ইচ্ছে তাই করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস সুত্রে যানাযায়, পলাশ চন্দ্র এর আগে যে জায়গায় চাকুরী করেছিল সেখানেও সে এমন নিয়ম বর্হিরভুত অনিয়ম, দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারীতা এবং নিজের বর্বরতার কারণে তাকে স্টান্ড রিলিজ করে ডোমারে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একজন গৃহিণী জানান, পলাশ সর্বদাই কেন্দ্রের মূল গেটটি বন্ধ করে রাখেন। ছোট পকেট গেটটি ও খোলা রাখেননা তার ছাগল বাইরে বের হয়ে যাবে বলে সেটিও প্রায়ই বন্ধ থাকে। কাউকে ভেতরে ঢুকতে হলে গেটটি চাপ দিয়ে খুলে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।
এবিষয়ে ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এবং উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য তাকদীরুল আহসান সোহেল জানান, কেন্দ্রটি আমার বাড়ির পাশে, আমি দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি পলাশ ছাদের উপরে ছাগল ও হাঁসের খামার বানিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনের জায়গায় ঘাস চাষ করে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি কেন্দ্রটিকে ডেঙ্গুর বংশ বিস্তার ও পোকামাকড়ের অভয়াশ্রমে পরিনত করেছে। এছাড়া আমি নিজেও আমার সন্তানকে টিকা দিতে আসলে মূল গেটটি বন্ধ পাই। পরে ছোট গেট দিয়ে ঢুকে সন্তানকে টিকা দিই। অর্থাৎ মূল গেটটি সবসময় বন্ধ থাকে। এলাকাবাসী আমাকে অভিযোগ জানালে আমি পলাশকে ছাগল হাঁস কবুতর পালনের বিষয়ে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে আমার কথা কোন কর্ণপাতেই করছেনা। আজকে আমি নিজেও কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে দেখি মেঝেতে ছাগলের পায়খানা এবং হাস মুরগীর বিষ্টা দিয়ে মেঝেটা নোংরা হয়ে দূগন্ধ ছড়াচ্ছে যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার জন্য চরম বিপদজনক। আমি একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এই কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য অথচ পলাশ আমাকেও মূল্যায়ন করছেনা। নিশ্চয় তার পিছনে বড় শক্তি কাজ করছে। তিনি আরও জানান, পলাশ এখানে চাকরির পাশাপাশি নিজে ঔষুধের দোকানের অন্তরালে দাদন ব্যবসা পরিচালনা করছে।
এবিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, ‘ছাগল পালনের বিষয়টি সম্পর্কে আমি আমার উপজেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।’

এবিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, আপনি বললেন যেহেতু আমি খুব দ্রুত পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।’

নীলফামারী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল কামাল মুঠোফোনে জানান, আমি এ বিষয়ে পূর্ব থেকে কিছু জানি না। আমাকে কিছু জানানো হয়নি এখন আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি অবগত হলাম, আমি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানাবো তিনি সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেবেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।