রংপুর ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নীলফামারীতে শাপলা যুব সংঘ ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন দিবস পালিত নীলফামারীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন ডোমারে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, উদ্ধার ১০ পিস নীলফামারীতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নীলফামারীতে বিচারক শূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, দায়িত্ব পালনে অনীহা ভারপ্রাপ্ত বিচারকের জলঢাকায় ট্রাক-ভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত অটো যত্রী হাসপাতালে ভর্তি ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন রংপুর রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলা পুলিশ নির্বাচিত নীলফামারী গোমনাতীর পরিত্যক্ত ফরেস্ট এখন বিনোদন কেন্দ্র, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

নীলফামারীতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অর্থ আত্মসাৎ এবং পদত্যাগ করা মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ারদের নামে সম্মানী ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

Advertisement
Advertisement

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে অ্যাডভোকেসি সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের। এ জন্য তাঁর আড়াই হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো সভায় অংশ না নিয়েই ওই অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পরিবহন খরচ বাবদ স্বাস্থ্য কর্মীদের ২০০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগে কয়েকজন ভলান্টিয়ার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পদত্যাগ কার্যকর না দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভলান্টিয়ার বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আরেকটি প্রকল্পে চাকরি হওয়ায় আমি মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিই। পরে জানতে পারি, আমার পদত্যাগ দেখানো হয়নি। উল্টো আমার নামে উপজেলা থেকে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে কার্যালয়ে গেলে আমাকে বলা হয়, চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় আমি আর ভাতা পাব না।’
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ভলান্টিয়ার পদত্যাগ করলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। ইটাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের অপেক্ষমান থাকা এক নারী বলেন, নিপা নামে এক মেয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। আমি অপেক্ষমান ছিলাম। কিন্তু আমাকে জয়েন করানো হয়নি।
এদিকে আবু হেনা মোস্তফা কামালের ফেসবুক প্রোফাইলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নীলফামারী জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিদ্রূপ করা এবং সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। চাকরিবিধি অনুযায়ী এসব বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে কয়েকদিন গেলেও তার‌ দেখা মেলেনি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন,’অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Advertisement
Advertisement

Advertisement
Advertisement
Popular Post

নীলফামারীতে শাপলা যুব সংঘ ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : ১১:১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অর্থ আত্মসাৎ এবং পদত্যাগ করা মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ারদের নামে সম্মানী ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

Advertisement
Advertisement

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে অ্যাডভোকেসি সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের। এ জন্য তাঁর আড়াই হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো সভায় অংশ না নিয়েই ওই অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পরিবহন খরচ বাবদ স্বাস্থ্য কর্মীদের ২০০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগে কয়েকজন ভলান্টিয়ার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পদত্যাগ কার্যকর না দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভলান্টিয়ার বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আরেকটি প্রকল্পে চাকরি হওয়ায় আমি মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিই। পরে জানতে পারি, আমার পদত্যাগ দেখানো হয়নি। উল্টো আমার নামে উপজেলা থেকে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে কার্যালয়ে গেলে আমাকে বলা হয়, চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় আমি আর ভাতা পাব না।’
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ভলান্টিয়ার পদত্যাগ করলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। ইটাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের অপেক্ষমান থাকা এক নারী বলেন, নিপা নামে এক মেয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। আমি অপেক্ষমান ছিলাম। কিন্তু আমাকে জয়েন করানো হয়নি।
এদিকে আবু হেনা মোস্তফা কামালের ফেসবুক প্রোফাইলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নীলফামারী জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিদ্রূপ করা এবং সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। চাকরিবিধি অনুযায়ী এসব বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে কয়েকদিন গেলেও তার‌ দেখা মেলেনি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন,’অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Advertisement
Advertisement

Advertisement
Advertisement