
নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অর্থ আত্মসাৎ এবং পদত্যাগ করা মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ারদের নামে সম্মানী ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে অ্যাডভোকেসি সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের। এ জন্য তাঁর আড়াই হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো সভায় অংশ না নিয়েই ওই অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পরিবহন খরচ বাবদ স্বাস্থ্য কর্মীদের ২০০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগে কয়েকজন ভলান্টিয়ার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পদত্যাগ কার্যকর না দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভলান্টিয়ার বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আরেকটি প্রকল্পে চাকরি হওয়ায় আমি মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিই। পরে জানতে পারি, আমার পদত্যাগ দেখানো হয়নি। উল্টো আমার নামে উপজেলা থেকে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে কার্যালয়ে গেলে আমাকে বলা হয়, চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় আমি আর ভাতা পাব না।’
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ভলান্টিয়ার পদত্যাগ করলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। ইটাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের অপেক্ষমান থাকা এক নারী বলেন, নিপা নামে এক মেয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। আমি অপেক্ষমান ছিলাম। কিন্তু আমাকে জয়েন করানো হয়নি।
এদিকে আবু হেনা মোস্তফা কামালের ফেসবুক প্রোফাইলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নীলফামারী জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিদ্রূপ করা এবং সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। চাকরিবিধি অনুযায়ী এসব বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে কয়েকদিন গেলেও তার দেখা মেলেনি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন,’অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক 

















