
আবেদ আলী : নীলফামারীর জলঢাকায় ৫ বছরের শিশু কন্যা খাদিজা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু, থানা পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জলঢাকা থানা মোড়স্থ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে অপমৃত্যু খাদিজা আক্তারের পিতার পরিবারবর্গ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের পরিবারের পক্ষে নজরুল ইসলাম। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার সকাল ১১টার দিকে জলঢাকা উপজেলার ২নং ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নালারপাড় এলাকা নিজ বাড়ি থেকে প্রতিপক্ষ এনামুল হকের (৫০) বাড়িতে বেড়াতে থাকা অবস্থায় শিশু খাদিজা আকতার আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রতিপক্ষ এনামুল হকের পরিবারের সাথে পূর্বে থেকেই পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তাদের সন্দেহ, প্রতিপক্ষকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হেনস্তা ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অথবা পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শিশুটির সুরতহাল ও লাশ উদ্ধারের পর তার শরীরের অবস্থা দেখে বিষয়টি স্বাভাবিক পানিতে ডুবে মৃত্যু বলে মনে হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানানো হলেও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ ইসলাম তাদের কাছ থেকে একটি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। ওই কাগজে লেখা ছিল যে মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের কারও কোনো সন্দেহ নেই। পুলিশের এমন ভূমিকা ও বৈষম্যমূলক আচরণে পরিবারটি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া ঘটনার অনুসন্ধানে সত্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করায় এক স্থানীয় সাংবাদিককে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ সময় নিহতের পরিবার শিশু খাদিজা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, সঠিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ, সাংবাদিককে হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং চলাচলের রাস্তায় তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
আবেদ আলী 














