রংপুর ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জলঢাকায় ফ‍্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন নীলফামারী চেম্বারের নির্বাচনে মাহবুব রহমান সভাপতি নির্বাচিত চিলাহাটিতে ৪৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রেজাউল গ্রেফতার জলঢাকায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য ও ষাণ্মাসিক ফলাফল উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ চিলাহাটীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শিক্ষার আলো জ্বালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের সাইকেল প্রদান

জলঢাকায় রাস্তা পাকাকরণ কাজ পরিদর্শন করলেন ইউএনও

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।

দীর্ঘদিন ধরে জনবহুল এই এলাকায় খাল-খন্দে ভরা জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। অবশেষে পৌরসভার কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি পাকাকরণ করা হচ্ছে।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে আকস্মিকভাবে নির্মাণাধীন সড়কটি পরিদর্শনে যান ইউএনও জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।

এ সময় তিনি পুরো রাস্তা হেঁটে ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কাজের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না এবং স্থানীয় জনগণের কোনো অভিযোগ আছে কি না, সেসব বিষয়ও তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা পৌরসভার প্রকৌশলী আলেকজান্ডার, পৌর সার্ভেয়ার আমজাদ হোসেন, লাইসেন্স নবায়ন কর্মকর্তা আবদুল আজিজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সফিকুল ইসলাম সবুজও উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীরহাট পন্ডিতপাড়া হয়ে তিনকদল যাওয়ার মধ্যবর্তী অংশে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। লোকমান আলীর বাড়ি থেকে মজিবর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ ফুট প্রশস্ত এই সড়কের একটি অংশ পূর্বে আংশিক পাকা থাকলেও ব্রিজের নিচের অংশসহ বেশ কিছু জায়গা কাঁচা ছিল। বর্ষা মৌসুমে কাদা এবং পানিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯০০ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সফিকুল ইসলাম সবুজ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে ইউএনও জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে তদারকি করছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি সহ্য করা হবে না। কাজের মান যাতে ঠিক থাকে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে নজরদারি করছে। কোনো ধরনের সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সফিকুল ইসলাম সবুজ জানান, রাস্তার কাজ করতে গিয়ে শুরুতে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাস্তায় ছোট-বড় গাছ, খালের অংশ, বাড়ির সীমানা এবং বিভিন্ন টার্নিং পয়েন্টে জটিলতা থাকায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পরিকল্পনা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুরবস্থার কারণে তাদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। রাস্তা পাকাকরণ কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Popular Post

উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ

জলঢাকায় রাস্তা পাকাকরণ কাজ পরিদর্শন করলেন ইউএনও

Update Time : ০৩:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।

দীর্ঘদিন ধরে জনবহুল এই এলাকায় খাল-খন্দে ভরা জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। অবশেষে পৌরসভার কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি পাকাকরণ করা হচ্ছে।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে আকস্মিকভাবে নির্মাণাধীন সড়কটি পরিদর্শনে যান ইউএনও জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।

এ সময় তিনি পুরো রাস্তা হেঁটে ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কাজের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না এবং স্থানীয় জনগণের কোনো অভিযোগ আছে কি না, সেসব বিষয়ও তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা পৌরসভার প্রকৌশলী আলেকজান্ডার, পৌর সার্ভেয়ার আমজাদ হোসেন, লাইসেন্স নবায়ন কর্মকর্তা আবদুল আজিজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সফিকুল ইসলাম সবুজও উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীরহাট পন্ডিতপাড়া হয়ে তিনকদল যাওয়ার মধ্যবর্তী অংশে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। লোকমান আলীর বাড়ি থেকে মজিবর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ ফুট প্রশস্ত এই সড়কের একটি অংশ পূর্বে আংশিক পাকা থাকলেও ব্রিজের নিচের অংশসহ বেশ কিছু জায়গা কাঁচা ছিল। বর্ষা মৌসুমে কাদা এবং পানিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯০০ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সফিকুল ইসলাম সবুজ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে ইউএনও জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে তদারকি করছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি সহ্য করা হবে না। কাজের মান যাতে ঠিক থাকে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে নজরদারি করছে। কোনো ধরনের সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সফিকুল ইসলাম সবুজ জানান, রাস্তার কাজ করতে গিয়ে শুরুতে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাস্তায় ছোট-বড় গাছ, খালের অংশ, বাড়ির সীমানা এবং বিভিন্ন টার্নিং পয়েন্টে জটিলতা থাকায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পরিকল্পনা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুরবস্থার কারণে তাদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। রাস্তা পাকাকরণ কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।