• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন |
  • English Version
Headline :
নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নীলফামারী সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার জলঢাকায় মানবকল্যান সংস্থার উদ্দ্যোগে বিনামুল্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামগ্রী বিতরণ জলঢাকায় পরিবহন খাতে উত্তেজনা: শ্রমিক নেতা ও মালিকপক্ষের পৃথক সংবাদ সম্মেলন “জনগণ যা চাইবে, সেটাই হবে আইন—নীলফামারীতে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন” নীলফামারীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল জলঢাকায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক নেতা ও পরিবহন মালিকের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন: চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জলঢাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত নীলফামারীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার: তরুণ সমাজ হুমকিতে, নীরব প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন নীলফামারীবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শামীম

নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক / ২৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

যে ঘরে জীবনের শেষ আশ্রয় খুঁজেছিলেন এক অসহায় বৃদ্ধা মা, সেই ঘরের মেঝের নিচেই দুই দিন পর মিলল তার নিথর দেহ। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফা বেগম তার বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করতেন। ছোট ছেলে লাভিন মিয়া চাকরির কারণে ঢাকায় থাকতেন। গত সোমবার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান মারুফা বেগম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের দুই দিন পর রহস্যজনক ঘটনার সূত্রপাত হয়। বুধবার লাভিন মিয়ার স্ত্রী ঘর গোছানোর সময় বিছানার তোশকের নিচে রক্তের দাগ এবং ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লাভিন মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝের ফাটল দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় মারুফা বেগমের মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি ঢাকা থেকে এসে জানতে পারি, আমার মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। এরপর ভাবি রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। ওই দিন থেকেই মা নিখোঁজ ছিলেন। পরে ঘরের ভেতর রক্ত ও মেঝেতে ফাটল দেখে পুলিশকে জানাই। আমার মা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বড় ভাই জুয়েল আত্মগোপনে রয়েছে। আমার দৃঢ় ধারণা, সে-ই আমার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “নিহতের ছোট ছেলে থানায় এসে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মারুফা বেগম দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
একজন মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যে সন্তানকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন, সেই সন্তানের বিরুদ্ধেই উঠেছে হত্যার অভিযোগ—এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category