রংপুর ০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
জলঢাকায় শিক্ষানবিশ ও তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচনে RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত আইডিইবির কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুর বিভাগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিমুর রহমান অসহায় মা-বাবার শেষ ভরসা সৈয়দপুরের ‘মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম আইডিইবি’র অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন : রংপুর বিভাগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিমুর রহমানকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন নীলফামারীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও গুণীজনদের সম্মাননা জলঢাকায় লেবার ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন উপলক্ষে ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন সম্পাদকীয় : ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি, নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা ডিমলায় ১৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি, জব্দ মোবাইল ও সিম আদা, রসুন ও লেবুর দামে বড় লাফ, চাল-ময়দা কিনতেও নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

অসহায় মা-বাবার শেষ ভরসা সৈয়দপুরের ‘মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম

Advertisement
Advertisement

 

জয়নাল আবেদীন হিরো,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বৃদ্ধ বয়সে যাঁদের সন্তানের স্নেহে,পরিবারের ভালোবাসায় দিন কাটানোর কথা,তাঁদের অনেকেরই শেষ ঠিকানা হয়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম। কারও সন্তান খোঁজ রাখেন না,কেউ আবার পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে পড়েছেন।জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমনই অসহায় মা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আশ্রয়,খাবার,চিকিৎসা ও নিরাপদ জীবনযাপনের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুরের ‘মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম’।

Advertisement
Advertisement

উপজেলার কামারপুকুর বাজারসংলগ্ন ডিগ্রি কলেজের বিপরীতে কামারপুকুর সরকারপাড়া,স্থানীয়ভাবে পরিচিত নতুন ডাঙাপাড়ার এলাকায় অবস্থিত এই বৃদ্ধাশ্রমটি গত পাঁচ বছর ধরে অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে।শিল্পপতি আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩ জন অসহায় প্রবীণ নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।প্রতিষ্ঠানটির আসনসংখ্যা ৩২। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত আটজন আশ্রিত ব্যক্তি মারা গেছেন।এ ছাড়া প্রায় ২৫ জনকে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বৃদ্ধ বয়সে পরিবারের অবহেলা,ভরণপোষণের অভাব ও অসহায়ত্বে ভোগা মা-বাবার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতেই মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের যাত্রা শুরু। যাঁদের জীবনের শেষ সময়ে আপনজনের সেবা-যত্ন পাওয়ার কথা,তাঁদের অনেকেই যখন পরিবারের কাছে অবহেলিত,তখন এই প্রতিষ্ঠান তাঁদের জন্য হয়ে উঠেছে নতুন আশার ঠিকানা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়,মনোরম পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বৃদ্ধাশ্রমটির চারপাশ।এখানকার আশ্রিত প্রবীণ নারীরা নিজেদের মতো করে সময় কাটান।তাঁদের মুখে হাসি,কথাবার্তায় স্বস্তি আর নিরাপদে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা চোখে পড়ে। আশ্রিতদের খাবার প্রস্তুতের জন্য রয়েছেন একজন রাঁধুনি।পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে রয়েছেন আরেকজন কর্মী।পাশাপাশি তাঁদের দৈনন্দিন দেখাশোনা,বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার জন্য রয়েছেন পুরুষ কেয়ারটেকার।

বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন প্রবীণ নারী তাঁদের জীবনের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়ে, ভাতিজা-কেউ ঠিকমতো খোঁজখবর নিত না।পরিবারের লোকজন আমাদের বোঝা মনে করত।বাড়িতে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি।ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া ও ভরণপোষণ পেতাম না। এখানে আসার পর ভালো আছি।খাওয়াদাওয়ার কোনো সমস্যা নেই।জীবনের বাকি দিনগুলো এখানেই কাটিয়ে দিতে চাই।

তাঁদের কথায় ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের অবহেলা,বঞ্চনা ও একাকিত্বের যন্ত্রণা।একই সঙ্গে প্রকাশ পায় একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।আপনজনের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলোর কাছে বৃদ্ধাশ্রমটি এখন শুধু থাকার জায়গা নয়,বরং নিরাপত্তা ও স্বস্তিতে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের কেয়ারটেকার মাওলানা মুফতি রাসেল আহমেদ বলেন,“প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিল্পপতি আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত পাঁচ বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমটি পরিচালিত হয়ে আসছে।এখানে আশ্রয় নেওয়া মা-দের থাকা, খাওয়াদাওয়া,ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তিনি নিজ উদ্যোগে দেখাশোনা করেন।

তিনি আরও বলেন,“অসহায় মা-দের জীবনের শেষ সময়ে যেন কষ্ট করতে না হয়,সে জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।তবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করা একটি বড় দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের অনুপস্থিতিতেও যেন বৃদ্ধাশ্রমটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকে,সে জন্য দেশ-বিদেশের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়েও ভাবনার অবকাশ রয়েছে।নিয়মিত অর্থায়ন,চিকিৎসাসেবা,খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি টেকসই সহযোগিতাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি,প্রবাসী বাংলাদেশি,বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে আশ্রিত মানুষগুলোর জীবন আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হতে পারে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল গফুর সরকার বলেন,মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম সৈয়দপুরের গর্ব।আমি মনে করি এই আশ্রয় কেন্দ্রটি সকলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। অবশ্যই শিল্পপতি আলহাজ্ব মাহফুজ আলমকে এই ধরনের মানবিক কাজের জন্য সাধুবাদ জানাই।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন,আমি গিয়েছিলাম ওই বৃদ্ধাশ্রমে ৷ এটি একটি বড় মহৎ কাজ ৷ সবাই এধরনের কাজ করতে পারে না ৷ তবে সম্পদ ও বৃত্তশালীদের এই ধরনের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসা দরকার ৷ আমি যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি ৷ আমি ঊপরমহলে বিষয়টি জানাবো যাতে সরকারীভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা যায় অবশ্যই চেষ্টা করবো ৷

প্রসঙ্গ,বৃদ্ধাশ্রমের এই গল্প কেবল কয়েকজন অসহায় প্রবীণ নারীর আশ্রয় পাওয়ার গল্প নয়;এটি পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ববোধেরও প্রশ্ন।যে মা-বাবা একসময় সন্তানদের আগলে রেখে বড় করেছেন,জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের যেন অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে না হয়-এ দায়িত্ব সবার।সৈয়দপুরের মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম সেই দায়িত্ব পালনের একটি মানবিক উদ্যোগ। তবে এমন উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন সম্মিলিত সহযোগিতা,সামাজিক সচেতনতা ও প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। কারণ,জীবনের শেষ বয়সে প্রত্যেক মানুষেরই প্রাপ্য নিরাপদ আশ্রয়,পর্যাপ্ত খাবার,চিকিৎসা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার।

 

Advertisement

Popular Post

জলঢাকায় শিক্ষানবিশ ও তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচনে RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত

অসহায় মা-বাবার শেষ ভরসা সৈয়দপুরের ‘মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম

Update Time : ০৭:০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Advertisement
Advertisement

 

জয়নাল আবেদীন হিরো,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বৃদ্ধ বয়সে যাঁদের সন্তানের স্নেহে,পরিবারের ভালোবাসায় দিন কাটানোর কথা,তাঁদের অনেকেরই শেষ ঠিকানা হয়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম। কারও সন্তান খোঁজ রাখেন না,কেউ আবার পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে পড়েছেন।জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমনই অসহায় মা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আশ্রয়,খাবার,চিকিৎসা ও নিরাপদ জীবনযাপনের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুরের ‘মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম’।

Advertisement
Advertisement

উপজেলার কামারপুকুর বাজারসংলগ্ন ডিগ্রি কলেজের বিপরীতে কামারপুকুর সরকারপাড়া,স্থানীয়ভাবে পরিচিত নতুন ডাঙাপাড়ার এলাকায় অবস্থিত এই বৃদ্ধাশ্রমটি গত পাঁচ বছর ধরে অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে।শিল্পপতি আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩ জন অসহায় প্রবীণ নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।প্রতিষ্ঠানটির আসনসংখ্যা ৩২। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত আটজন আশ্রিত ব্যক্তি মারা গেছেন।এ ছাড়া প্রায় ২৫ জনকে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বৃদ্ধ বয়সে পরিবারের অবহেলা,ভরণপোষণের অভাব ও অসহায়ত্বে ভোগা মা-বাবার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতেই মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের যাত্রা শুরু। যাঁদের জীবনের শেষ সময়ে আপনজনের সেবা-যত্ন পাওয়ার কথা,তাঁদের অনেকেই যখন পরিবারের কাছে অবহেলিত,তখন এই প্রতিষ্ঠান তাঁদের জন্য হয়ে উঠেছে নতুন আশার ঠিকানা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়,মনোরম পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বৃদ্ধাশ্রমটির চারপাশ।এখানকার আশ্রিত প্রবীণ নারীরা নিজেদের মতো করে সময় কাটান।তাঁদের মুখে হাসি,কথাবার্তায় স্বস্তি আর নিরাপদে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা চোখে পড়ে। আশ্রিতদের খাবার প্রস্তুতের জন্য রয়েছেন একজন রাঁধুনি।পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে রয়েছেন আরেকজন কর্মী।পাশাপাশি তাঁদের দৈনন্দিন দেখাশোনা,বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার জন্য রয়েছেন পুরুষ কেয়ারটেকার।

বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন প্রবীণ নারী তাঁদের জীবনের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়ে, ভাতিজা-কেউ ঠিকমতো খোঁজখবর নিত না।পরিবারের লোকজন আমাদের বোঝা মনে করত।বাড়িতে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি।ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া ও ভরণপোষণ পেতাম না। এখানে আসার পর ভালো আছি।খাওয়াদাওয়ার কোনো সমস্যা নেই।জীবনের বাকি দিনগুলো এখানেই কাটিয়ে দিতে চাই।

তাঁদের কথায় ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের অবহেলা,বঞ্চনা ও একাকিত্বের যন্ত্রণা।একই সঙ্গে প্রকাশ পায় একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।আপনজনের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলোর কাছে বৃদ্ধাশ্রমটি এখন শুধু থাকার জায়গা নয়,বরং নিরাপত্তা ও স্বস্তিতে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের কেয়ারটেকার মাওলানা মুফতি রাসেল আহমেদ বলেন,“প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিল্পপতি আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত পাঁচ বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমটি পরিচালিত হয়ে আসছে।এখানে আশ্রয় নেওয়া মা-দের থাকা, খাওয়াদাওয়া,ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তিনি নিজ উদ্যোগে দেখাশোনা করেন।

তিনি আরও বলেন,“অসহায় মা-দের জীবনের শেষ সময়ে যেন কষ্ট করতে না হয়,সে জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।তবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করা একটি বড় দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের অনুপস্থিতিতেও যেন বৃদ্ধাশ্রমটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকে,সে জন্য দেশ-বিদেশের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়েও ভাবনার অবকাশ রয়েছে।নিয়মিত অর্থায়ন,চিকিৎসাসেবা,খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি টেকসই সহযোগিতাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি,প্রবাসী বাংলাদেশি,বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে আশ্রিত মানুষগুলোর জীবন আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হতে পারে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল গফুর সরকার বলেন,মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম সৈয়দপুরের গর্ব।আমি মনে করি এই আশ্রয় কেন্দ্রটি সকলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। অবশ্যই শিল্পপতি আলহাজ্ব মাহফুজ আলমকে এই ধরনের মানবিক কাজের জন্য সাধুবাদ জানাই।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন,আমি গিয়েছিলাম ওই বৃদ্ধাশ্রমে ৷ এটি একটি বড় মহৎ কাজ ৷ সবাই এধরনের কাজ করতে পারে না ৷ তবে সম্পদ ও বৃত্তশালীদের এই ধরনের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসা দরকার ৷ আমি যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি ৷ আমি ঊপরমহলে বিষয়টি জানাবো যাতে সরকারীভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা যায় অবশ্যই চেষ্টা করবো ৷

প্রসঙ্গ,বৃদ্ধাশ্রমের এই গল্প কেবল কয়েকজন অসহায় প্রবীণ নারীর আশ্রয় পাওয়ার গল্প নয়;এটি পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ববোধেরও প্রশ্ন।যে মা-বাবা একসময় সন্তানদের আগলে রেখে বড় করেছেন,জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের যেন অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে না হয়-এ দায়িত্ব সবার।সৈয়দপুরের মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রম সেই দায়িত্ব পালনের একটি মানবিক উদ্যোগ। তবে এমন উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন সম্মিলিত সহযোগিতা,সামাজিক সচেতনতা ও প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। কারণ,জীবনের শেষ বয়সে প্রত্যেক মানুষেরই প্রাপ্য নিরাপদ আশ্রয়,পর্যাপ্ত খাবার,চিকিৎসা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার।

 

Advertisement