
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্রই নয়, এটি এই অঞ্চলের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে, সেই ভরসাস্থলই আজ অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর চরম ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, জনবলসংকট ও নষ্ট যন্ত্রপাতির কারণে হাসপাতালটি তার ন্যূনতম সেবার মানও বজায় রাখতে পারছে না। যা স্পষ্টতই উত্তরাঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক গভীর সংকটের সংকেত দেয়।
ধারোচ্ছ ক্ষমতার তুলনায় প্রতিনিয়ত কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝে, করিডোর, এমনকি শৌচাগারের পাশে শুয়ে সেবা নেওয়াটা রোগীদের জন্য নিত্যদিনের দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রামক ব্যাধিতে ভোগা শিশুদের গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়ার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে। সঙ্গে রয়েছে অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য।
উপরন্তু, দীর্ঘদিন ধরে জরুরি রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অচল থাকায় অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে বেশি টাকা খরচ করে বাইরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।
তবে এই সংকটের দায় কেবল স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপালে মূল সমস্যাটি আড়ালেই থেকে যাবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও শয্যার অভাবে কর্তৃপক্ষকেও প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। মূলত আঞ্চলিক স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা ও সক্ষমতার বিশাল ফারাকই আজকের এই করুণ দশার জন্ম দিয়েছে।
চিকিৎসা পাওয়া মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। রাজধানী কিংবা বিভাগীয় বড় শহরের ওপর চাপ কমাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো আঞ্চলিক বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে। অচল যন্ত্রপাতি মেরামত, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, দালালচক্র নির্মূল এবং পরিচ্ছন্ন ও রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিস্তা ও উত্তরের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে চাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং কঠোর জবাবদিহিতা। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই সরকারি হাসপাতাল যেন কোনোভাবেই অবহেলার কেন্দ্র হয়ে না ওঠে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই এখন প্রত্যাশা।
মাহাদী হাসান মানিক 






