রংপুর ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জলঢাকায় ফ‍্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন নীলফামারী চেম্বারের নির্বাচনে মাহবুব রহমান সভাপতি নির্বাচিত চিলাহাটিতে ৪৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রেজাউল গ্রেফতার জলঢাকায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য ও ষাণ্মাসিক ফলাফল উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ চিলাহাটীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শিক্ষার আলো জ্বালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের সাইকেল প্রদান

সৈয়দপুরে বাসে তল্লাশি: ৪৮০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য

জয়নাল আবেদিন হিরো : দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ খালেকুল (২৩)। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং মাদকের বড় একটি চালান ধরা পড়ায় প্রশাসনের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযানের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নীলফামারী জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের একটি বড় চালান পঞ্চগড় অভিমুখে যাচ্ছে—এমন একটি গোপন সংবাদ আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল। এই সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের ‘খ’ সার্কেলের একটি বিশেষ টিম সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করা হয়।

​রাত আনুমানিক গভীর হওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা এবং পঞ্চগড় অভিমুখী ‘প্রিয়ম’ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ওয়াপদা মোড় এলাকায় পৌঁছালে ডিএনসি সদস্যরা বাসটি থামানোর সংকেত দেয়। বাসটি থামার পর কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সন্দেহভাজন যাত্রী হিসেবে খালেকুলকে চিহ্নিত করেন।

তল্লাশি ও ইয়াবা উদ্ধার

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেকুল কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরে তার সাথে থাকা স্কুল ব্যাগে তল্লাশি চালায় ডিএনসি টিম। তল্লাশিকালে ব্যাগটির ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ৪ হাজার ৮০০ পিস লালচে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এই বিশাল পরিমাণ ইয়াবার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।

​গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ খালেকুল ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ি নয়া দলুয়া এলাকার মোহাম্মদ আসলামের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং বাহক হিসেবে কাজ করে আসছিল।

আইনি পদক্ষেপ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী ‘খ’ সার্কেলের উপ-পরিদর্শক সাকিব সরকার এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকৃত মাদকসহ আসামিকে রাতেই হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর ২১। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, “মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমাদের এই ধরনের আকস্মিক ও গোপন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকা ও মহাসড়কগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে যাতে যুবসমাজকে এই মরণনেশা থেকে রক্ষা করা যায়।”

জনমনে স্বস্তি ও সচেতনতা

​সৈয়দপুর একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা প্রায়ই এই রুটটি ব্যবহার করার চেষ্টা করে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৪৮০০ পিস ইয়াবা ধরা পড়া মানে হাজার হাজার তরুণকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করা। তবে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, এই ব্যবসার মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবার মতো ভয়াবহ মাদক উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করায় সামাজিক অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ছে। পরিবারের বড় সন্তানদের চলাফেরার ওপর নজর রাখা এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উপসংহার

​নীলফামারী জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকে করে যাতে মাদক পাচার হতে না পারে, সে জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

​সৈয়দপুরের এই সফল অভিযানটি মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধীরা যত কৌশলীই হোক না কেন, প্রশাসনের নজরদারি এড়ানো যে সহজ নয়, এই গ্রেফতার তারই প্রমাণ। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে নীলফামারী জেলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন আরও কঠোর ভূমিকা পালন করবে। এই ইয়াবা চালানের নেপথ্যে আর কারা জড়িত এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল, তা নিয়ে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

Popular Post

উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ

সৈয়দপুরে বাসে তল্লাশি: ৪৮০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য

Update Time : ১০:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

জয়নাল আবেদিন হিরো : দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ খালেকুল (২৩)। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং মাদকের বড় একটি চালান ধরা পড়ায় প্রশাসনের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযানের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নীলফামারী জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের একটি বড় চালান পঞ্চগড় অভিমুখে যাচ্ছে—এমন একটি গোপন সংবাদ আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল। এই সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের ‘খ’ সার্কেলের একটি বিশেষ টিম সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করা হয়।

​রাত আনুমানিক গভীর হওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা এবং পঞ্চগড় অভিমুখী ‘প্রিয়ম’ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ওয়াপদা মোড় এলাকায় পৌঁছালে ডিএনসি সদস্যরা বাসটি থামানোর সংকেত দেয়। বাসটি থামার পর কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সন্দেহভাজন যাত্রী হিসেবে খালেকুলকে চিহ্নিত করেন।

তল্লাশি ও ইয়াবা উদ্ধার

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেকুল কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরে তার সাথে থাকা স্কুল ব্যাগে তল্লাশি চালায় ডিএনসি টিম। তল্লাশিকালে ব্যাগটির ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ৪ হাজার ৮০০ পিস লালচে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এই বিশাল পরিমাণ ইয়াবার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।

​গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ খালেকুল ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ি নয়া দলুয়া এলাকার মোহাম্মদ আসলামের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং বাহক হিসেবে কাজ করে আসছিল।

আইনি পদক্ষেপ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী ‘খ’ সার্কেলের উপ-পরিদর্শক সাকিব সরকার এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকৃত মাদকসহ আসামিকে রাতেই হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর ২১। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, “মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমাদের এই ধরনের আকস্মিক ও গোপন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকা ও মহাসড়কগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে যাতে যুবসমাজকে এই মরণনেশা থেকে রক্ষা করা যায়।”

জনমনে স্বস্তি ও সচেতনতা

​সৈয়দপুর একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা প্রায়ই এই রুটটি ব্যবহার করার চেষ্টা করে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৪৮০০ পিস ইয়াবা ধরা পড়া মানে হাজার হাজার তরুণকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করা। তবে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, এই ব্যবসার মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবার মতো ভয়াবহ মাদক উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করায় সামাজিক অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ছে। পরিবারের বড় সন্তানদের চলাফেরার ওপর নজর রাখা এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উপসংহার

​নীলফামারী জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকে করে যাতে মাদক পাচার হতে না পারে, সে জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

​সৈয়দপুরের এই সফল অভিযানটি মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধীরা যত কৌশলীই হোক না কেন, প্রশাসনের নজরদারি এড়ানো যে সহজ নয়, এই গ্রেফতার তারই প্রমাণ। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে নীলফামারী জেলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন আরও কঠোর ভূমিকা পালন করবে। এই ইয়াবা চালানের নেপথ্যে আর কারা জড়িত এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল, তা নিয়ে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।