রংপুর ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংকোচনের প্রতিবাদ,কমিটি পুনর্গঠনের দাবি  রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ডোমারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবের মরদেহ মিললো নীলফামারীর ডিমলায় জলঢাকায় ৩৮ বছর শিক্ষকতার পর অবসর, রেজাউল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা জলঢাকায় শিক্ষক রেজাউল করিম খাঁনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নীলফামারীর সাংবাদিকদের মতবিনিময় ডোমারে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক জলঢাকায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা জলঢাকায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

বড় মাঠ দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান স্বস্তি খেলোয়াড়-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে, ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল প্রশাসন

নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে দোকান সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দ্রুত মাঠটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

Advertisement
Advertisement

নীলফামারী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ।
শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা—সবকিছুর অন্যতম প্রধান ভেন্যু এই মাঠ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠের একাংশ দখল করে গড়ে ওঠে অবৈধ দোকানপাট। এতে কমে যায় খেলাধুলার জায়গা, ব্যাহত হয় খেলোয়াড়দের অনুশীলন।

Advertisement

মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. তানজীর ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দোকানদারদের দ্রুত দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে মাঠে জড়ো হন স্থানীয় মানুষ, খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, মাঠটি দখলমুক্ত হলে নতুন প্রজন্মের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে।

Advertisement

“দীর্ঘদিন ধরে মাঠের জায়গা দখল করে দোকান বসানো হয়েছিল। এতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছিল না। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মাঠটি যেন আর দখল না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”

অভিযানের সময় প্রশাসনের নির্দেশ পেয়ে কয়েকজন দোকানদার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দোকান ও মালামাল সরিয়ে নেন। তবে কিছু স্থায়ী স্থাপনা থাকায় সেগুলো সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম শাহ্ আরেফিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু মোহাম্মদ সোয়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

“মাঠের জায়গা কমে যাওয়ায় অনুশীলনে অনেক সমস্যা হতো। বিশেষ করে বড় পরিসরে খেলা অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দোকানগুলো সরে গেলে আমরা ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারব।”

প্রশাসন বলছে, প্রাথমিকভাবে দোকানদারদের স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ স্থাপনা না সরালে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. তানজীর ইসলাম বলেন,
“আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে এসে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলেছি। কিছু দোকান তাৎক্ষণিকভাবে উঠেও গেছে। কিছু স্থায়ী দোকান ছিল, সেগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় উঠে না গেলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো উচ্ছেদ করা হবে।”

“একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়, এটি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। নীলফামারীর এই বড় মাঠ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে তার স্বাভাবিক পরিবেশ হারাচ্ছিল। প্রশাসনের এই অভিযানে তাই স্বস্তি ফিরেছে খেলোয়াড়, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এখন তাদের প্রত্যাশা—শুধু উচ্ছেদ নয়, নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও যেন মাঠটি দখলমুক্ত রাখা হয়।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উচ্ছেদ অভিযান দ্রুত সম্পন্ন করে বড় মাঠের পুরো জায়গা খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাঠের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
তাদের মতে, মাঠটি দখলমুক্ত থাকলে শুধু খেলাধুলার পরিসরই বাড়বে না, নীলফামারীর ক্রীড়াঙ্গনেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।
ট্যাগ:
দখলমুক্ত বড় মাঠে আবারও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা আর তরুণ খেলোয়াড়দের অনুশীলনে মুখর হবে—এমন প্রত্যাশা এখন নীলফামারীবাসীর।

Advertisement
Popular Post

আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংকোচনের প্রতিবাদ,কমিটি পুনর্গঠনের দাবি 

বড় মাঠ দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান স্বস্তি খেলোয়াড়-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে, ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল প্রশাসন

Update Time : ১১:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে দোকান সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দ্রুত মাঠটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

Advertisement
Advertisement

নীলফামারী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ।
শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা—সবকিছুর অন্যতম প্রধান ভেন্যু এই মাঠ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠের একাংশ দখল করে গড়ে ওঠে অবৈধ দোকানপাট। এতে কমে যায় খেলাধুলার জায়গা, ব্যাহত হয় খেলোয়াড়দের অনুশীলন।

Advertisement

মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. তানজীর ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দোকানদারদের দ্রুত দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে মাঠে জড়ো হন স্থানীয় মানুষ, খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, মাঠটি দখলমুক্ত হলে নতুন প্রজন্মের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে।

Advertisement

“দীর্ঘদিন ধরে মাঠের জায়গা দখল করে দোকান বসানো হয়েছিল। এতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছিল না। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মাঠটি যেন আর দখল না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”

অভিযানের সময় প্রশাসনের নির্দেশ পেয়ে কয়েকজন দোকানদার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দোকান ও মালামাল সরিয়ে নেন। তবে কিছু স্থায়ী স্থাপনা থাকায় সেগুলো সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম শাহ্ আরেফিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু মোহাম্মদ সোয়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

“মাঠের জায়গা কমে যাওয়ায় অনুশীলনে অনেক সমস্যা হতো। বিশেষ করে বড় পরিসরে খেলা অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দোকানগুলো সরে গেলে আমরা ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারব।”

প্রশাসন বলছে, প্রাথমিকভাবে দোকানদারদের স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ স্থাপনা না সরালে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. তানজীর ইসলাম বলেন,
“আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে এসে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলেছি। কিছু দোকান তাৎক্ষণিকভাবে উঠেও গেছে। কিছু স্থায়ী দোকান ছিল, সেগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় উঠে না গেলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো উচ্ছেদ করা হবে।”

“একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়, এটি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। নীলফামারীর এই বড় মাঠ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে তার স্বাভাবিক পরিবেশ হারাচ্ছিল। প্রশাসনের এই অভিযানে তাই স্বস্তি ফিরেছে খেলোয়াড়, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এখন তাদের প্রত্যাশা—শুধু উচ্ছেদ নয়, নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও যেন মাঠটি দখলমুক্ত রাখা হয়।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উচ্ছেদ অভিযান দ্রুত সম্পন্ন করে বড় মাঠের পুরো জায়গা খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাঠের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
তাদের মতে, মাঠটি দখলমুক্ত থাকলে শুধু খেলাধুলার পরিসরই বাড়বে না, নীলফামারীর ক্রীড়াঙ্গনেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।
ট্যাগ:
দখলমুক্ত বড় মাঠে আবারও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা আর তরুণ খেলোয়াড়দের অনুশীলনে মুখর হবে—এমন প্রত্যাশা এখন নীলফামারীবাসীর।

Advertisement