রংপুর ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগদীশ চন্দ্রের সমর্থন কামনা ছাত্রদল নেতা দিপুর উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংকোচনের প্রতিবাদ,কমিটি পুনর্গঠনের দাবি  রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ডোমারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবের মরদেহ মিললো নীলফামারীর ডিমলায় জলঢাকায় ৩৮ বছর শিক্ষকতার পর অবসর, রেজাউল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা জলঢাকায় শিক্ষক রেজাউল করিম খাঁনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নীলফামারীর সাংবাদিকদের মতবিনিময় ডোমারে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক জলঢাকায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা

খোলা হাঁটি শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে বিদ্যুৎ অপচয় ও গভীর রাতে লটারি-জুয়ার অভিযোগ

জয়নাল আবেদীন হিরো, ষ্টাফ রিপোর্টার

রংপুর-পার্বতীপুর সড়কে ৪-৫ কিলোমিটার যানজট প্রতিনিয়ত যেন পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পথচারীদের।
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশনা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কথিত শিল্প-বাণিজ্য মেলা। মেলার আড়ালে অনুমোদনহীন লটারি ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে।আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রলোভনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ লটারিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে,গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে চলছে আলোকসজ্জা,মাইকিং,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লটারি। ফলে একদিকে সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি প্রশ্নের মুখে পড়ছে,অন্যদিকে উচ্চ শব্দে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,মেলার কারণে রংপুর-পার্বতীপুর সড়কেও নিয়মিত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।কোনো কোনো সময় এ যানজট ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী,রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স,পথচারী,শিশু ও বয়স্কদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

লটারির প্রলোভনে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,মেলায় বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রচারণা চালিয়ে লটারিতে অংশগ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে টাকা খরচ করছেন।কেউ কেউ ধারদেনা করেও লটারিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের শব্দে শিশুদের পড়াশোনা ও মানুষের ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।মেলার নামে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে লটারি বা জুয়ার কার্যক্রম চলে,তাহলে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না-এটাই আমাদের প্রশ্ন। তাদের আরও অভিযোগ,মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও বেড়েছে।

সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতির তোয়াক্কা নেই?বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে শপিংমল,মার্কেট ও দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনার কথাও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন,সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকার মধ্যেও মেলা প্রাঙ্গণে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক আলোকসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ কীভাবে দেওয়া হচ্ছে?
তাদের দাবি,মেলার অনুমোদন,পরিচালনার সময়সীমা,বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈধতা এবং লটারি পরিচালনার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,মেলার অনুমোদন,লটারি পরিচালনার বৈধতা,অর্থের উৎস,গভীর রাত পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ-সবকিছু তদন্ত করে দেখা হোক।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন,শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে যদি সত্যিই অবৈধ লটারি ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে,তাহলে কার ছত্রছায়ায় তা চলছে?স্থানীয়দের অভিযোগ,মেলা কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে অর্থের বিনিময়ে‘ম্যানেজ’করে কথিত লটারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি,অবিলম্বে মেলার সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়কের যানজট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ মেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Popular Post

শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগদীশ চন্দ্রের সমর্থন কামনা

খোলা হাঁটি শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে বিদ্যুৎ অপচয় ও গভীর রাতে লটারি-জুয়ার অভিযোগ

Update Time : ১০:১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জয়নাল আবেদীন হিরো, ষ্টাফ রিপোর্টার

রংপুর-পার্বতীপুর সড়কে ৪-৫ কিলোমিটার যানজট প্রতিনিয়ত যেন পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পথচারীদের।
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশনা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কথিত শিল্প-বাণিজ্য মেলা। মেলার আড়ালে অনুমোদনহীন লটারি ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে।আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রলোভনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ লটারিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে,গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে চলছে আলোকসজ্জা,মাইকিং,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লটারি। ফলে একদিকে সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি প্রশ্নের মুখে পড়ছে,অন্যদিকে উচ্চ শব্দে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,মেলার কারণে রংপুর-পার্বতীপুর সড়কেও নিয়মিত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।কোনো কোনো সময় এ যানজট ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী,রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স,পথচারী,শিশু ও বয়স্কদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

লটারির প্রলোভনে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,মেলায় বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রচারণা চালিয়ে লটারিতে অংশগ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে টাকা খরচ করছেন।কেউ কেউ ধারদেনা করেও লটারিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের শব্দে শিশুদের পড়াশোনা ও মানুষের ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।মেলার নামে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে লটারি বা জুয়ার কার্যক্রম চলে,তাহলে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না-এটাই আমাদের প্রশ্ন। তাদের আরও অভিযোগ,মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও বেড়েছে।

সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতির তোয়াক্কা নেই?বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে শপিংমল,মার্কেট ও দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনার কথাও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন,সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকার মধ্যেও মেলা প্রাঙ্গণে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক আলোকসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ কীভাবে দেওয়া হচ্ছে?
তাদের দাবি,মেলার অনুমোদন,পরিচালনার সময়সীমা,বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈধতা এবং লটারি পরিচালনার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,মেলার অনুমোদন,লটারি পরিচালনার বৈধতা,অর্থের উৎস,গভীর রাত পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ-সবকিছু তদন্ত করে দেখা হোক।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন,শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে যদি সত্যিই অবৈধ লটারি ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে,তাহলে কার ছত্রছায়ায় তা চলছে?স্থানীয়দের অভিযোগ,মেলা কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে অর্থের বিনিময়ে‘ম্যানেজ’করে কথিত লটারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি,অবিলম্বে মেলার সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়কের যানজট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ মেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।