
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব (১৭) এর মরদেহের সন্ধান মিলেছে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের বসুনিয়া পাড়ায়।
এঘটনায় পুলিশ আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেফতার করেছে।
মামুনের দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে পুলিশের তদন্তটিম ডিমলা থানা পুলিশের সহযোগিতায় মামুনের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে, সেখানে মামুনের বাড়ির পার্শ্বে সুপারি বাগানের মাটি খুড়ে কার্টুনে মোড়ানো অবস্থায় রাকিবের মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক ভাবে সুরতহাল করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে পাঠিয়ে দেন।
পুলিশ সুত্রে ঘটনার বিষয়ে জানাযায়, গত ২/৩ মাস আগে ধানমন্ডির শুক্রাবাদে রাকিবের সাথে মামুনের পরিচয় হয়। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাকিব। ঢাকায় কোচিং করার জন্য রাকিব মিরপুর-১০ নম্বর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় অবস্থান করছিলেন। বন্ধুত্বের পরিচয়ে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর প্রতারনার জাল বিছিয়ে রাকিবকে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি করেন মামুন।
মুক্তিপণের দাবিতে রাকিবের সাথে বিরোধের এক পর্যায়ে মামুন রাকিবকে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহটি কার্টুনে ভরে ইলিশ মাছের কার্টুন বলে কল্যানপুর থেকে ডিমলাগামী বাসে উঠিয়ে নিজ বাড়ি ডিমলা উপজেলার ২ নং বালাপাড়া ইউনিয়নের বসুনিয়া পাড়ায় নিজের সুপারি বাগানে মাটি খুড়ে কার্টূনটি পুঁতে রেখে সে পূর্ণরায় ঢাকায় ফিরে আসেন। তবে মাটি খুড়ার কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন তার বাবা আফসার আলী। তবে বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঢাকায় ফিরে মামুন এ,আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৃত রাকিবকে জীবিত বানিয়ে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ চার লক্ষ (৪) টাকা আদায় করেন। রাকিবের পরিবার টাকা দেওয়ায় পরেও ছেলেকে ফেরত না পাওয়ায় গত ৩ অক্টোবর ঢাকার কাফরুল থানায় ছেলের অপহরণের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের এক পর্যায়ে ঐ দিনই মামুনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামুনের বাবা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি মামুন স্বীকার করেন। এবং তারই দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার গ্রামের বাড়ির সুপারি বাগান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঢাকা কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলায় দায়ের করা হয়েছে মামলা নং,–০৫।
আব্দুল্লাহ মামুনের দেয়া তথ্যমতে মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিব হত্যাকান্ডের সাথে রতন ও নুরজামাল নামে আরও জনৈক দুই ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য যে, নিহত মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ২য় পুত্র বলে জানা যায়।
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারী 


















