নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ২ নম্বর ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ভিজিএফের চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মুছা নালখাঁ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক ইব্রাহিম আলী, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, অলিয়ার রহমান, মশিউর রহমান, আব্দুল জব্বার, রফিকুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, মমিনুর রহমান, রোস্তম আলী, সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা বেগম, আফরোজা বেগম ও জাহানারা আক্তার মাসুমা প্রমুখ।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৯১৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।
ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ইয়াসমিন রুহি ফারজানা জানান, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাভাবে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে টোকেন পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে করে সুবিধাভোগীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এসে সহজেই তাদের প্রাপ্য চাল গ্রহণ করতে পেরেছেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে আগে থেকেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেই তালিকার ভিত্তিতেই প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন।
ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মুছা নালখাঁ গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের এই সহায়তা দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ইউনিয়নের ১ হাজার ৯১৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ভিজিএফের চাল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিতরণ কার্যক্রম অবাধ ও সুশৃঙ্খল রাখতে টোকেন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সমন্বয়ে আগে থেকেই সুবিধাভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। এরপর সেই কার্ড ও টোকেন অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টোকেন পদ্ধতির কারণে বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ভিড় বা বিশৃঙ্খলা হয়নি। সবাই নির্ধারিত নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে চাল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এতে করে দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা ঈদের আগে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতেও সরকারের যেকোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একইভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে বলেও তারা জানান।