জামিনে মুক্তির পরপরই আবার আটক হলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মাদারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। মঙ্গলবার সকালে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মুহূর্তেই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে পুনরায় হেফাজতে নেয়।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি কারাগারে ছিলেন। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে মুক্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তার পরিবার, স্বজন এবং সমর্থকরা জেলগেটে উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেন এবং মুক্তির মুহূর্তটি উদযাপনের প্রস্তুতিও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগার থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় হঠাৎ করেই ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চেয়ারম্যান বিপ্লবের গাড়ির পথরোধ করে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে তাকে আবারও আটক করে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। এ সময় উপস্থিত সমর্থক ও আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের কিছুটা উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
চেয়ারম্যান বিপ্লবের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজল এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কোনো নতুন ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে পুনরায় আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করার একটি প্রচেষ্টা। তার মতে, অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে মামলায় যুক্ত করে পরবর্তীতে আবার আটক করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদ ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও কোন মামলায় তাকে পুনরায় আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে গত ১২ মার্চ রাতে কালীগঞ্জে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাকে আটক করে থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় সেদিন তিনি মুক্তি পাননি এবং পরদিন সকালে মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ নিয়ে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে কমিশন সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই চেয়ারম্যান বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। চেয়ারম্যানের সমর্থকরা তার পুনরায় আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান বিপ্লবকে কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।