রংপুর ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
জলঢাকায় সন্ধা হলেই চলে জুয়ার আয়োজন : এদের খুটির জোর কোথায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন? সৈয়দপুর উপজেলা যুবদলের সিঃ যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন সানারুল ইসলাম জলঢাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল জলঢাকায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার !! পরিকল্পিত হত্যা মর্মে স্বজনদের অভিযোগ ডোমারে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ ডোমারে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান‌ নিয়ে হাসিনার মানবেতর জীবন যাপন ঢাবিতে নীলফামারীর কৃতী শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ে মাধুপাড়া বিজিবি বিওপি উদ্বোধন নীলফামারী বড় মাঠ দখলমুক্ত, অবৈধ দোকান উচ্ছেদে স্বস্তি খেলোয়াড়-শিক্ষার্থীসহ মাঠপ্রেমীদের

দুই হাত নেই পা দিয়েই মাস্টার্স পরীক্ষায় আরিফা

জন্ম থেকেই দুই হাত অচল—যেখানে অনেকেই জীবনের শুরুতেই হাল ছেড়ে দেন, সেখানে অসাধারণ দৃঢ়তা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে নিজের ভাগ্য নিজেই লিখেছেন আরিফা খাতুন। হাতের পরিবর্তে পা-ই হয়ে উঠেছে তার কলম, তার শক্তি, তার স্বপ্নপূরণের একমাত্র হাতিয়ার। সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি পা দিয়ে লিখেই পৌঁছে গেছেন উচ্চশিক্ষার শিখরে—মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে।

সমাজের প্রচলিত সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আরিফা খাতুন প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথ রোধ করতে পারেনি; বরং প্রতিটি বাধাই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তার এই সংগ্রামী জীবনের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে।

এই অসাধারণ মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। আজ তিনি স্বশরীরে আরিফা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং তার পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এসময় তিনি আরিফার অদম্য সাহস ও অধ্যবসায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মাননীয় মন্ত্রী আরিফার শিক্ষা জীবনকে আরও এগিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে অনুদান প্রদান করেন এবং তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় স্বপ্ন দেখার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “আরিফা খাতুন আমাদের সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার মতো সংগ্রামী মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার সবসময় মেধাবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।”

এই মানবিক উদ্যোগ শুধু আরিফা খাতুনের জীবনেই নতুন আশার আলো জ্বালায়নি, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে—যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই পথ; আর পাশে থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজ, তখন স্বপ্নগুলো হয়ে ওঠে আরও বাস্তব।

আরিফা খাতুন আজ শুধু একজন শিক্ষার্থী নন—তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম, এক সাহসিকতার প্রতীক, যিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।

Popular Post

জলঢাকায় সন্ধা হলেই চলে জুয়ার আয়োজন : এদের খুটির জোর কোথায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন?

দুই হাত নেই পা দিয়েই মাস্টার্স পরীক্ষায় আরিফা

Update Time : ০৬:০০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

জন্ম থেকেই দুই হাত অচল—যেখানে অনেকেই জীবনের শুরুতেই হাল ছেড়ে দেন, সেখানে অসাধারণ দৃঢ়তা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে নিজের ভাগ্য নিজেই লিখেছেন আরিফা খাতুন। হাতের পরিবর্তে পা-ই হয়ে উঠেছে তার কলম, তার শক্তি, তার স্বপ্নপূরণের একমাত্র হাতিয়ার। সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি পা দিয়ে লিখেই পৌঁছে গেছেন উচ্চশিক্ষার শিখরে—মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে।

সমাজের প্রচলিত সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আরিফা খাতুন প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথ রোধ করতে পারেনি; বরং প্রতিটি বাধাই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তার এই সংগ্রামী জীবনের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে।

এই অসাধারণ মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। আজ তিনি স্বশরীরে আরিফা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং তার পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এসময় তিনি আরিফার অদম্য সাহস ও অধ্যবসায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মাননীয় মন্ত্রী আরিফার শিক্ষা জীবনকে আরও এগিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে অনুদান প্রদান করেন এবং তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় স্বপ্ন দেখার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “আরিফা খাতুন আমাদের সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার মতো সংগ্রামী মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার সবসময় মেধাবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।”

এই মানবিক উদ্যোগ শুধু আরিফা খাতুনের জীবনেই নতুন আশার আলো জ্বালায়নি, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে—যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই পথ; আর পাশে থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজ, তখন স্বপ্নগুলো হয়ে ওঠে আরও বাস্তব।

আরিফা খাতুন আজ শুধু একজন শিক্ষার্থী নন—তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম, এক সাহসিকতার প্রতীক, যিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।