রংপুর ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জলঢাকায় ফ‍্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন নীলফামারী চেম্বারের নির্বাচনে মাহবুব রহমান সভাপতি নির্বাচিত চিলাহাটিতে ৪৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রেজাউল গ্রেফতার জলঢাকায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য ও ষাণ্মাসিক ফলাফল উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ চিলাহাটীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শিক্ষার আলো জ্বালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের সাইকেল প্রদান

বিনম্র শ্রদ্ধা আর অদম্য চেতনায় পালিত হলো মহান একুশে ফেব্রুয়ারি: নতুন শপথে আগামীর বাংলাদেশ

রক্তঝরা সেই ১৯৫২ সালের স্মৃতি অমলিন রেখে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের নতুন প্রত্যয়ে রাজধানীসহ সারা দেশের রাজপথ আজ মিশে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে। ধর্ম-বর্ণ-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের পদভারে মুখরিত ছিল বাঙালির এই আবেগের আঙিনা।

​প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধাঞ্জলি

​শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ঘড়ির কাঁটা ছোঁয়ার আগেই নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার ঠিক সাত মিনিট পরেই রাত ১২টা ৮ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

​জনসমুদ্রে পরিণত হয় শহীদ মিনার

​রাতভর শ্রদ্ধার এই স্রোত থামেনি। সেহরি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপর সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই শুরু হয় ঐতিহাসিক ‘প্রভাতফেরি’। খালি পায়ে, পরনে একুশের শোকের প্রতীক সাদা-কালো পোশাক আর হাতে প্রিয় ফুলের তোড়া নিয়ে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে হাজারো মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার কণ্ঠেই ছিল সেই কালজয়ী সুর, “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…”

​বিকেলের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজ নিজ ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

​একুশের চেতনায় আগামীর পথচলা

​দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তারা একুশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একুশ মানেই মাথা নত না করা। কেবল ভাষা রক্ষা নয়, বরং এই আন্দোলনের মূল মন্ত্র ছিল গণতন্ত্র এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একুশের সেই অদম্য চেতনাকে পাথেয় করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এসব অনুষ্ঠান থেকে।

​পুরো দিনজুড়ে রাজধানীসহ দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানাবিধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৫২-র ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

Popular Post

উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ

বিনম্র শ্রদ্ধা আর অদম্য চেতনায় পালিত হলো মহান একুশে ফেব্রুয়ারি: নতুন শপথে আগামীর বাংলাদেশ

Update Time : ০৫:২১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রক্তঝরা সেই ১৯৫২ সালের স্মৃতি অমলিন রেখে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের নতুন প্রত্যয়ে রাজধানীসহ সারা দেশের রাজপথ আজ মিশে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে। ধর্ম-বর্ণ-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের পদভারে মুখরিত ছিল বাঙালির এই আবেগের আঙিনা।

​প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধাঞ্জলি

​শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ঘড়ির কাঁটা ছোঁয়ার আগেই নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার ঠিক সাত মিনিট পরেই রাত ১২টা ৮ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

​জনসমুদ্রে পরিণত হয় শহীদ মিনার

​রাতভর শ্রদ্ধার এই স্রোত থামেনি। সেহরি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপর সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই শুরু হয় ঐতিহাসিক ‘প্রভাতফেরি’। খালি পায়ে, পরনে একুশের শোকের প্রতীক সাদা-কালো পোশাক আর হাতে প্রিয় ফুলের তোড়া নিয়ে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে হাজারো মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার কণ্ঠেই ছিল সেই কালজয়ী সুর, “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…”

​বিকেলের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজ নিজ ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

​একুশের চেতনায় আগামীর পথচলা

​দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তারা একুশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একুশ মানেই মাথা নত না করা। কেবল ভাষা রক্ষা নয়, বরং এই আন্দোলনের মূল মন্ত্র ছিল গণতন্ত্র এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একুশের সেই অদম্য চেতনাকে পাথেয় করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এসব অনুষ্ঠান থেকে।

​পুরো দিনজুড়ে রাজধানীসহ দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানাবিধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৫২-র ইতিহাস তুলে ধরা হয়।