রীর জলঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন জেলা রেজিস্ট্রার এস এম সোহেল রানা মিলন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম। পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন রকিবুল ইসলাম বাদশা।
নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্য—এই চারটি পদে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৭ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২ জন এবং কার্যকরী সদস্য পদে ৬ জন প্রার্থী অংশ নেন।
ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রেজিস্ট্রার এস এম সোহেল রানা মিলন।
ফলাফলে সভাপতি পদে ছাইদুল আলম সরকার ২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমজাদ হোসেন সরকার পান ১৭ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে আসাদুজ্জামান মিঠু সরকার ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সফিকুল ইসলাম পান ২২ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোনাব্বুল হক ৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ পান ২৭ ভোট। কার্যকরী সদস্য পদে আবুল কাশেম ৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অহিদুজ্জামান পান ৭৫ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়।
পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি ছাইদুল আলম সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু সরকার বলেন, সহকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। সহকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ এবং জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতিকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক স্থবিরতার পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সচেতন মহল নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।