রংপুর ০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জলঢাকায় ফ‍্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন নীলফামারী চেম্বারের নির্বাচনে মাহবুব রহমান সভাপতি নির্বাচিত চিলাহাটিতে ৪৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রেজাউল গ্রেফতার জলঢাকায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য ও ষাণ্মাসিক ফলাফল উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি চিলাহাটিতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ চিলাহাটীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শিক্ষার আলো জ্বালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের সাইকেল প্রদান

জলঢাকায় গ্রামীণ শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে জলঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছা. মর্জিনা খাতুন। তিনি জানান, তার স্বামী মো. আমজাদ হোসেন গ্রামীণ ব্যাংকের নীলফামারী সদর এলাকার রামগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় শাখা ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল হকের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হামিদুল হক বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও অফিসের অডিটজনিত ক্যাশ ঘাটতির কথা বলে তাদের কাছ থেকে একাধিক কিস্তিতে টাকা নেন। জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ এবং অফিসের হিসাব সমন্বয়ের অজুহাতে তিনি মোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮ টাকা গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অডিটের সময় ক্যাশ ঘাটতি আড়াল করতে হামিদুল হক সহকর্মীদের কাছ থেকেও টাকা ধার নিতেন এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করতেন। ব্যাংকের ব্যালেন্স সার্টিফিকেটেও অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শুধু এই পরিবার নয়, স্থানীয় আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যার মধ্যে শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায় ও হামিদুল ইসলাম নামে একজন চিকিৎসক রয়েছেন, তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শাখা ব্যবস্থাপক প্রভাব খাটিয়ে আমজাদ হোসেনকে মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন এবং শাস্তিমূলক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসরের ষড়যন্ত্র করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে আমজাদ হোসেনকে পাঠগ্রাম জোনাল অফিসে ওএসডি করে রাখা হয়েছে।
মর্জিনা খাতুন বলেন, জীবনের সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে তাদের পরিবার এখন চরম সংকটে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা সঠিক প্রতিকার পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে শরাফত আলী সরু, জরিনা বেগম, ছমেদা বেগম, সাহিদা বেগম ও শাহরিয়ার নাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. হামিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Popular Post

উপজেলার ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ

জলঢাকায় গ্রামীণ শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৮:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে জলঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছা. মর্জিনা খাতুন। তিনি জানান, তার স্বামী মো. আমজাদ হোসেন গ্রামীণ ব্যাংকের নীলফামারী সদর এলাকার রামগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় শাখা ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল হকের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হামিদুল হক বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও অফিসের অডিটজনিত ক্যাশ ঘাটতির কথা বলে তাদের কাছ থেকে একাধিক কিস্তিতে টাকা নেন। জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ এবং অফিসের হিসাব সমন্বয়ের অজুহাতে তিনি মোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮ টাকা গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অডিটের সময় ক্যাশ ঘাটতি আড়াল করতে হামিদুল হক সহকর্মীদের কাছ থেকেও টাকা ধার নিতেন এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করতেন। ব্যাংকের ব্যালেন্স সার্টিফিকেটেও অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শুধু এই পরিবার নয়, স্থানীয় আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যার মধ্যে শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায় ও হামিদুল ইসলাম নামে একজন চিকিৎসক রয়েছেন, তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শাখা ব্যবস্থাপক প্রভাব খাটিয়ে আমজাদ হোসেনকে মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন এবং শাস্তিমূলক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসরের ষড়যন্ত্র করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে আমজাদ হোসেনকে পাঠগ্রাম জোনাল অফিসে ওএসডি করে রাখা হয়েছে।
মর্জিনা খাতুন বলেন, জীবনের সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে তাদের পরিবার এখন চরম সংকটে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা সঠিক প্রতিকার পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে শরাফত আলী সরু, জরিনা বেগম, ছমেদা বেগম, সাহিদা বেগম ও শাহরিয়ার নাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. হামিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।